বিশ্বব্যাংকের চাকরি ছেড়ে গোল্ডস্টেইন রাজনীতি করলে ভাল হয় :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে নিজের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইনের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘উনি তো (গোল্ডস্টেইন) কতো কথাই বলেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি নাকি খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। উনি বিশ্ব ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে এখানে এসে রাজনীতি শুরু করলে ভাল হয়।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংক জানুয়ারি মাসের মধ্যে সাড়া না দিলে বিকল্প ব্যবস্থায় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী জানান, জানুয়ারির মধ্যে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয় বলে গোল্ডস্টেইন ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যালেন গোল্ডস্টেইন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপগুলো মাইল ফলক হয়ে থাকবে। জনগণ অর্থের অপচয় দেখতে চায় না। আর সাধারণ মানুষও আমার নেয়া পদক্ষেপকে বিশ্বাস করে। আর এ কারণেই পদ্মাসেতু প্রকল্পে আমার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশে আবাসিক মিশন প্রধান হিসাবে চলতি জানুয়ারি মাসেই দায়িত্বের তিন বছর পূরণ করছেন অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে ঢাকার মিশন প্রধানের দায়িত্ব নিচ্ছেন ভারতীয় নাগরিক সালমান জাহির। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রী গতকাল আরো বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি। দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। আগামী দিনেও সেই সম্ভাবনা নেই।’ দুর্নীতি না হলে, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে কেন সরানো হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আপনারা দুদককে জিজ্ঞেস করুন। আমরা প্রকৃতপক্ষে সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দিতে চাইনি। যেহেতু বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ তুলেছে, তিনি থাকলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে, তাই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’ অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিশ্বব্যাংক না এলে অন্য দাতা সংস্থাদের নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরুর চেষ্টা করা হবে। বিশ্ব ব্যাংক যদি একান্তই অর্থায়ন না করে, তাহলে পদ্মা সেতু নির্মাণে অন্য দুই আগ্রহী চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।