রাজধানীর হাজারীবাগে নিজ বাসার শোবার ঘরে খুন হয়েছেন এক গৃহবধূ। নিহতের নাম তাসলিমা আক্তার জেসমিন (৪০)। ২৯১ /বি, টালী অফিস রোডের বাসার ২য় তলা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের গলায় ক্ষত ও মুখের মধ্যে গামছা ঢুকানো ছিল। জেসমিনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, খুনিরা নিহতের ঘনিষ্ঠজন। তারা দাবি করছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে জেসমিনকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সময় বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মালামাল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হাজারীবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল জানান, তাসলিমা আক্তার জেসমিন বুটিকের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক সূত্রে কিছুদিন আগে এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তরুণীটি মাঝে মাঝে তার বাসায় আসতো। বুধবার সন্ধ্যায় এক মহিলা ও দুই যুবককে নিয়ে ওই তরুণী তার বাসায় বেড়াতে আসে। পরে সুযোগ বুঝে মধ্যরাতে জেসমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। এরপর দ্বিতীয় তলার সিঁড়িঘরের গ্রিল ভেঙ্গে ঘাতকরা পালিয়ে যায়।
নিহতের আট বছর বয়সী সন্তানের বরাত দিয়ে ওসি জানান, জেসমিনের গলায় চাপাতি ধরে তার ছেলেকে চিত্কার করতে নিষেধ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ছেলের সামনেই মায়ের হাত-পা বেঁধে গলা টিপে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বামী এনামুল হক পারভেজ দেশের বাইরে থাকেন বলে জানা গেছে।
জেসমিনের বোন শামীমা আক্তার মুক্তা জানান, ওই রাতে আশা নামে জেসমিনের পরিচিত একজন বেড়াতে আসেন। পরে আরও দুই যুবক ও এক নারী আসেন। রাতের খাবার খেয়ে তারা অন্য দুই কক্ষে ঘুমাতে যান। সন্তানকে নিয়ে জেসমিন ছিলেন আরেক কক্ষে। এছাড়া আরেকটি কক্ষে ছিলেন বাসার দুই গৃহকর্মী রনি আক্তার বৃষ্টি (২২) ও কাজল ওরফে শিল্পী (২৫)।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রুমানা আফরোজ শান্তা বাদী হয়ে গতকাল বিকালে হাজারীবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আশার নাম উল্লেখ করে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
