বঙ্গবন্ধুসহ বহু কৃতীমান ছিলেন গৈলা স্কুলের শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪২
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি উত্সব গত বুধবার অনুষ্ঠিত হলো। পূর্তি উত্সব উপলক্ষে স্কুল চত্বরে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব আয়োজনে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের মিলন মেলা বসেছিল। কর্মব্যস্ততার কারণে দূরে থাকায় দীর্ঘদিন দেখা হয়নি ছোট্টবেলার সহপাঠীদের সাথে। তাই অনেকদিন পর পুরনো দিনের স্মৃতিকে স্মরণ করে একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরেন। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও প্রয়াত মন্ত্রী সুনীল কুমার গুপ্ত, সাবেক উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্রিগেডিয়ার এম.এ মালেক (অব.), সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, কলকাতার বেথুন কলেজের অধ্যক্ষ তটিনী গুপ্তা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’বার পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনকারী সুরেন্দ্রনাথ গুপ্ত, সচিব আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ বর্তমানে দেশ-বিদেশে কর্মরত অসংখ্য কৃতীমান ব্যক্তি ছিলেন গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ অঞ্চলে এ স্কুলটি এখনো পূর্বের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। স্কুল সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, আগৈলঝাড়ার প্রতিটি ঘরের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে ১৮৯৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ফুলশ্রী গ্রামের শিক্ষানুরাগী কৈলাশ চন্দ্র সেন প্রথমে গৈলা কালুপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দাসের বাড়িতে গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়ায় দাসের বাড়িতেই বর্তমান স্থানে স্কুলটি স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়ায় গৈলা নামক স্থানে এ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। স্কুলের পাশেই রয়েছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে সর্বপ্রথম সম্মুখযুদ্ধে নিহত শহীদ সিপাহী আলাউদ্দিন ওরফে আলা বক্সের সমাধিস্থল। বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের সর্বপ্রথম মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ৩৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী। পাঠদানে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়টি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আরো জানা গেছে, গৈলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন ফুলশ্রী গ্রামের কৈলাশ চন্দ্র সেন। তিনি বিএ পাস করে সরকারি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু অবহেলিত আগৈলঝাড়ার জনপদের মানুষের শিক্ষার কথা ভেবে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন। দীর্ঘ ৩৭ বছর স্কুল পরিচালনার কাজ করে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম ছরোয়ার বলেন, গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সকালে বণার্ঢ্য র্যালি, মিষ্টি বিতরণ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউসুফ হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল আলম। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।