হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র
কামরুল হাসান দিপু
প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান
গ্রীনফিল্ড কলেজ, ঢাকা
প্রশ্ন-১। হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য বর্ণনা কর।
উত্তর ঃ প্রত্যেক ব্যবসায়ীর আর্থিক বত্সর শেষে তার ব্যবসায়ের ফলাফল জানতে আগ্রহ জাগে। হিসাববিজ্ঞানের মাধ্যমে এই ফলাফল জানা যায়। যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যাবলীর ফলাফল নিরূপণ করাই হিসাববিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্যে। নিম্নে হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করা হল ঃ
১। লেনদেনের স্থায়ী লিপিবদ্ধকরণ ঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনসমূহ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হিসাবের বহিতে লিপিবদ্ধ করা হিসাববিজ্ঞানের মুখ্য উদ্দেশ্য। এরূপ করলে স্মৃতিশক্তির সাহায্য ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের প্রকৃতি অনুধাবন করা যায়।
২। লাভ-লোকসান নির্ণয় ঃ একটি নির্দিষ্ট সময় পর কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যাবলির ফলাফল অর্থাত্ লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা হিসাববিজ্ঞানের উদ্দেশ্য। হিসাববিজ্ঞান সঠিকভাবে এই কাজ সমাধা করে থাকে।
৩। আর্থিক অবস্থা নিরূপণ ঃ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা নিরূপণ করা হিসাববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানের দেনা, সম্পত্তি এবং মূলধনের পরিমাণ নির্ণয়ে আর্থিক বত্সর শেষে নির্দিষ্ট দিনে উদ্বৃত্ত পত্র প্রস্তুত করা হয়।
৪। নগদ অর্থের হিসাব রাখা ঃ নগদান বহি সংরক্ষণের মাধ্যমে নগদ টাকা-পয়সার হিসাব রাখা হয়। ফলে ব্যবসায়ী যে কোন সময় নগদান বহি বিশ্লে¬ষণ করে হাতে নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমাকৃত টাকা সম্পর্কে জানতে পারে।
৫। দৈনন্দিন দেনা-পাওনার পরিমাণ জানা ও নিষ্পত্তি ঃ সুষ্ঠুভাবে হিসাব রাখা হলে প্রতিষ্ঠানের দেনা-পাওনার পরিমাণ সহজেই জানা যায় এবং যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়্ ।
৬। জালিয়াতি উদ্ঘাটন ও প্রতিরোধ ঃ প্রতিষ্ঠানে হিসাববিজ্ঞান যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক জালিয়াতি সহজেই উদ্ঘাটন ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় কারণ সুষ্ঠু ও সঠিক হিসাব ব্যবস্থায় নিরীক্ষা কালে সহজেই জালিয়াতি ও অনিয়ম বের করা যায়।
৭। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ঃ যথাযথ হিসাব ব্যবস্থায় একটি হিসাব বছরের বিভিন্ন সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ জানা যায় এবং পূর্ববর্তী বছরের খরচের সাথে তুলনামূলক
বিশ্লে¬ষণও করা যায়। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছরের খরচের হ্রাস বৃদ্ধিও অনুপাতের সাথে আয়ের হ্রাসবৃদ্ধির অনুপাতের কারণ, ফলাফল ও দক্ষতা বিশে¬ষণ করা যায় যা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৮। কর নির্ধারণে সহায়ক ঃ সরকারের আয়ের অন্যতম মূল উত্স হল কর যা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে আইনের আওতায় আদায় করা হয়ে থাকে। তাই প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট, বিক্রয় কর, আয়কর সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে আর্থিক লেনদেনকে লিপিবদ্ধ, শ্রেণীবদ্ধ ও আর্থিক ফলাফল নির্ণয় করতে হয়।
৯। বিভিন্ন চলতি ও স্থায়ী সম্পদেও উপর নিয়ন্ত্রণ ঃ সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে হিসাব সংরক্ষণের মাধ্যমে যে কোন সময় প্রতিষ্ঠানের চলতি ও স্থায়ী সম্পদেও পরিমাণ ও বিবরণ জানা যায়। তদুপরি স্থায়ী সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায় এবং এদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
১০। দায়িত্ববোধ মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টি ঃ যথাযথ হিসাব ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, তছরূপ প্রতিরোধ করা যায় যা কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া সুষ্ঠু হিসাব ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ বা ব্যক্তির কার্যের ফলাফল মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় যা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ বা ব্যক্তির কার্যের ফলাফল মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় যা প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে এবং মালিকের নিকট জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১১। বিরোধ এড়ানো ঃ কারবারের যাবতীয় লেনদেনসমূহ সুষ্ঠু ও সুবিন্যাস্তভাবে লিপিবদ্ধ করা হলে প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশি¬ষ্ট পক্ষসমূহের যদি ভুল বুঝাবুঝি বা বিরোধ সৃষ্টি হয় তবে তা সহজেই নিষ্পত্তি করা যায় ।
১২। আইগত চাহিদা পূরণ ঃ আধুনিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। যেমন- কোম্পানি আইন, অংশীদারী আইন, কর অধ্যাদেশ, শুল্ক আইন, শিল্প আইন, সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ এ্যাক্ট ইত্যাদি। এ সমস্ত আইনের বিধি বিধান অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ ও হিসাব তথ্য উপস্থাপন হিসাববিজ্ঞানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৩। হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই ঃ দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে লেনদেনের হিসাব পক্ষসমূহকে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় বিধায় হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা যায়। ফলশ্রুতিতে সহজেই ভুলভ্রান্তি নির্ণয় ও সংশোধন করা যায়।
