গল্প নয় সত্যি

আবদার পূরণে ফেসবুক লাইক!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৭
হরহামেশা বাবা-মায়ের কাছে কত রকমের আবদারই তো করে সন্তানেরা। আর সন্তানের যেসব আবদার পূরণ করার মতো তেমন সব আবদারের জন্য পরীক্ষায় ভালো করা কিংবা ভালো হয়ে চলার মতো নানা শর্তও সুযোগ বুঝে জুড়ে দেন বাবা-মায়েরা। কিন্তু একটি কুকুর ছানা বাড়িতে আনার জন্য নিজের দুই মেয়ের দিকে যে শর্ত ছুড়ে দিয়েছিলেন আমেরিকার বোস্টনের অধিবাসী রায়ান কর্ডেল সেটি বিস্মিত হওয়ার মতোই ছিল। কর্ডেল তার মেয়েদের বলেছিলেন, তোমরা যদি এই বাড়িতে কুকুর ছানা আনার দাবির উপর সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে এক মিলিয়ন বা দশ লক্ষের বেশি লাইক (কারো বার্তা বা ছবির প্রতি ভালোলাগা প্রকাশের উপায়) জোগাড় করতে পারো তবেই মিলবে কুকুর ছানা। কর্ডেল হয়তো ভেবেছিলেন তার শিশুতোষ দুই মেয়ের পক্ষে এ শর্ত পূরণ একেবারেই অসম্ভব একটা কাজ হবে। আর এ যাত্রায় বাড়িতে কুকুর পোষার ঝামেলাও তাকে পোহাতে হবে না। কিন্তু একেতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা, আর অন্যদিকে এমন একটা শিশুসুলভ আবদার। তাই অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে উল্টো রায়ান কর্ডেলেরই চোখ কপালে ওঠে যখন তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে আবিষ্কার করেন যে, তার মেয়েরা তার শর্ত উল্লে¬খ করা এক মিলিয়ন লাইকেরও চেয়েও অনেক বেশি লাইক (১.৬ মিলিয়ন) জোগাড় করেছে তাদের দাবির সমর্থনে। এর মধ্যে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই এক মিলিয়ন লাইক আসে দুই বোন এবং রায়ান কর্ডেল এর অপর তিন সন্তানের দাবিসহ একটি ছবির উপর। এই ছবিতে কর্ডেল এর পাঁচ সন্তানকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকতে দেখা যায় যাতে লেখা ছিল, ‘হে বিশ্ব! আমরা একটি কুকুর ছানা বাড়িতে আনতে চাই। কিন্তু বাবা আমাদের বলেছেন আমরা তখনই একটি কুকুর ছানা পাবো যখন ফেসবুকে আমরা ১ মিলিয়ন লাইক পাবো। তিনি মনে করেন না আমরা এটা করতে পারব। তাই দয়া করে আমাদের দাবিকে লাইক করুন। মজার বিষয় হলো ফেসবুকে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়া দুই বোনের এই দাবি শুধুমাত্র দেড় মিলিয়নের বেশি লাইকই নয় বরং প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের মন্তব্য বা শুভকামনাও পায়। এ ছাড়া দেড় লাখেরও বেশি মানুষ দুই বোনের এই দাবি শেয়ার করার মাধ্যমে অন্য সবার কাছে পৌঁছে দেন। এদিকে মেয়েদের এই অভাবনীয় বিজয়ে মুগ্ধ বাবা রায়ান কর্ডেল ইতোমধ্যেই তার সন্তানদের জন্য ল্যাব-শেফার্ড শঙ্কর জাতের একটি কুকুর ছানা এনে দিয়েছেন। আর মিলিয়ন লাইকের ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কুকুরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিলি’।