সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ খননের অভাবে ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একসময় নদীর এই দীর্ঘ অংশ জুড়ে পানির প্রচণ্ড তোড় থাকলেও এখন সেখানে পানি নেই। ‘‘মরা গাঙ’’ হিসেবে পরিচিত নদীর এই অংশে এক সময় প্রচুর মাছও পাওয়া যেত। প্রকাশ, একসময় সুরমা নদীর এই অংশ প্রচণ্ড স্রোতস্বিনী ছিল। স্রোত আর ঢেউয়ের তাণ্ডবে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো চরম ভাঙ্গনের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রায় ২৫ বছর পূর্বে তত্কালীন সরকার ধনপুর থেকে হাউসা পর্যন্ত ২কিলোমিটার বাইপাস নদী খনন করে। এরপর সুরমার মূল প্রবাহ বাইপাস দিয়ে চলে যায়। স্রোতহীন হয়ে পড়ে ধনপুর থেকে তিলকপুর পর্যন্ত প্রবাহিত সুরমা নদীর বিশাল অংশ। এরপর থেকে ক্রমশ পলি ভরাট হতে থাকে। বর্তমানে দীর্ঘ নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশই ভরাট হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, পানির অভাবে দু’পাড়ে সেচ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ‘‘মরা গাঙ’’ হিসেবে পরিচিত এই অংশে পানি না থাকায় মাছও নেই। ফলে মাছের উপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। ইতিমধ্যে অনেক জেলে পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে নদীর প্রায় পুরোটাই ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে এখন ধান চাষ হচ্ছে এবং খেলার মাঠ ও গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে অনেক বলেছি। কিন্তু কেউ কথা শোনে না। তিনি বলেন, নদীটি খনন হলে অসংখ্য মানুষ ফায়দা পেত।
