আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে যিনি তৃতীয় শ্রেণির নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে! গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনাসভায় প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেছিলেন, ৬ দফা প্রণয়নকালে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তৃতীয় শ্রেণির নেতা। হানিফ বলেন, একাত্তর সালে এই সাংবাদিক হংকং গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে না। সেখানে হিন্দুস্তানি দুষ্কৃতরা পাকিস্তানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
গত শুক্রবার রাতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু তৃতীয় শ্রেণির নেতা ছিলেন বলে তিনি (মূসা) যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশোভন উক্তি করেছেন তা নিতান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত, দুর্ভাগ্যজনক। সরকার ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হনন, গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য স্লান করার মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে তিনি কার্যত বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্রকেই প্রকারান্তরে সহায়তা করে চলেছেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, দেশের বয়োজ্যষ্ঠ কলামিস্ট হিসেবে আমরা তাকে শ্রদ্ধার আসনেই দেখতে চাই। কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই যে হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা বেদনাদায়ক।
সাংবাদিক মূসা একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি চেয়ে না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি চেয়ে না পাওয়ায় তিনি তার ক্ষোভ নানাভাবে ব্যক্ত করে চলেছেন। তিনি এখন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এমনকি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানা রকম বেসামাল উক্তি করে নিজের মনের জ্বালা মেটাতে চাইছেন।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ধরনের ‘বিষোদগার’ করেছেন তা ‘উন্মাদের প্রলাপ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি সামরিক স্বৈরশাসকদের পদলেহন করতে দ্বিধা করেননি। সামরিক স্বৈরশাসকদের উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করে তাদের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গেছিলেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোটিপতি হয়েছেন। ওয়ান ইলেভেনের পর তিনি কিংস পার্টি গঠন করার চেষ্টা করেছেন।
এবিএম মূসা ও নূরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, তাদের ওই বক্তব্যের জন্য আইনি কোন ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। আমরা আশাকরি এই প্রতিবাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সবাই সতর্ক হবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক লুত্ফুন্নাহার মুন্নি প্রমুখ।
