নবম জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির সভা বসবে আজ দুপুর আড়াইটায় সংসদ ভবনে। চলতি সংসদের গত চার বছরে গুরুত্বপূর্ণ এ কমিটির গত ১৬টি সভায় কোনটিতেই বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাননি। আজকের সভাতেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। এ সভায় সংসদের অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হবে। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের এ অধিবেশন শুরু হবে। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এ অধিবেশনের প্রথম দিনেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
বিরোধী দলের নেতার এ কমিটির সভায় না যাওয়ার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। গত ১৬ বছরেও কোন বিরোধী দলীয় নেতা সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভাতে যাননি। তবে মজার বিষয় হলো, বিরোধী দলীয় নেত্রী যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তখন আবার তিনি নিয়মিত এ সভাতে যোগ দিয়েছেন। এর আগে অষ্টম সংসদে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সংসদে কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভা হয় ৩৪টি। এর কোনটিতেই যোগ দেননি ওই সময়ের বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই সংসদের পাঁচ বছরে সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয় ৩৭টি। ওই সংসদেও একই চিত্রই ছিল। কোন সভাতেই যোগ দেননি বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশে গত ১৬ বছরের এ সংসদীয় ইতিহাসে সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভায় কখনও বিরোধী দলীয় নেতা উপস্থিত হননি। সংসদ সচিবালয়ের কাগজপত্র ঘেঁটে এ দুর্ভাগ্যজনক চিত্র পাওয়া গেছে। তবে কমিটির বেশ কিছু বৈঠকে দুই প্রধান নেত্রীই তাদের পক্ষে একজন করে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। বেশিরভাগ সভাতে কোন প্রতিনিধিও যাননি।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২১৯ ধারা অনুসারে প্রথম অধিবেশন শুরুর পরই কার্যোপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। স্পিকারের সভাপতিত্বে ১৫ সদস্যের এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা সব সময় দুই ও তিন নম্বর সদস্য থাকেন। বাকি ১২ জনকে নির্বাচন করা হয় সরকারি ও বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে। সংসদের চিফ হুইপ পদাধিকার বলে এ কমিটির সদস্য।
প্রতি অধিবেশন শুরুর আগে এ কমিটির সভায় সংসদের অধিবেশনের সময়কাল এবং কার্যসূচি নির্ধারণ করা হয়। ঠিক করা হয়, বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার বিষয়। কিন্তু বিরোধী দলে গেলে আর আসেন না এ সভাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা। ঘুরে ফিরে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াই থাকেন এ কমিটির প্রথম দিকের দুই সদস্য।
এ ব্যাপারে স্পিকার ও কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভাপতি আবদুল হামিদ ইত্তেফাককে বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রীদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভায় আসলে কমিটি তথা সংসদের অনেক লাভ। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অনেক সমস্যা এখানে বসে সমাধান করা যায়। তিনি বলেন, কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভাতে বিরোধী দলীয় নেত্রীদের আনা গেলে সংসদ বর্জনের ইতিহাসও হয়তো কমে যেতো।
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে বলেন, বিরোধী দলের কথা আমলে নেয়া হয় না বলেই কার্যোপদেষ্টা কমিটির সভাসহ সংসদের সব কাজেই এখন সকলেরই আগ্রহ কম। তিনি বলেন, বিরোধী দলে গেলেই সব বর্জন-এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে সরকারি দলকেও উদ্যোগী হতে হবে।
