যতদিন পর্যন্ত অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা না যাবে ততদিন পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। আর এ জন্য দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর আইন করতে হবে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘কর্মজীবী নারী’ আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার এসব কথা বলেন। সংগঠনটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহজুড়ে ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে জোট বাধো, তৈরি হও-রুখে দাঁড়াও’ কর্মসূচি পালন করে। গতকালের মানববন্ধন ও মিছিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে রাজধানীতে ধর্ষণকারীদের হাতে নিহত ১০ বছরের শিশু রিতুর মা বক্তব্য রাখেন। তিনি মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমন একটা দিন বাদ নেই যেদিন পত্রিকায় ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হয় না। চলতি বছরের প্রথম মাসে এ পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩০০টিরও অধিক ঘটনা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ৫-১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনা। যা আমাদের শঙ্কিত-লজ্জিত-ব্যথিত-ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তাই সময় এসেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিঘাত করার ।
মানববন্ধনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ড. ইভা হত্যা, আদিবাসি কিশোরী থোমোচিং মার্মা হত্যা, টাঙ্গাইলের গণধর্ষণ, ইডেন কলেজের ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপ, শিশু রিতুকে ধর্ষণ করে হত্যা, মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে দেশব্যাপী জনমত গঠন ও প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহবান জানান বক্তারা।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত ঘোষণা ও কার্যকর করা, আইনজীবীদের ধর্ষণ-নির্যাতনকারীদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানো, প্রচার মাধ্যমে নারীর নেতিবাচক উপস্থাপন বন্ধ করা, ধর্ষক-নির্যাতনকারীদের বয়কট করাসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ঘোষণার দাবি জানান হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন মানবাধিকার, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গার্মেন্টস কর্মী ছাড়াও বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
