ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের সংর্ঘষ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক ‘জীবন’

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৫০
ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘর্ষে সংগঠনের এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। রাজধানীর এপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আছে ছাত্রলীগ কর্মী ও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আনোয়ার হোসেন জীবন। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগের ১০জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর ঘটনার সাথে জড়িত আটজন সংগঠনের কর্মী নন বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ ঢাকা কলেজ শাখার একাধিক কর্মী এবং শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সভাপতি এবং ‘পল্লব গ্রুপের’ মধ্যে বিরোধ রয়েছে। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জীবনের সাথেও তার বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের দূরত্ব তৈরি হয়। গত বছর জীবন তার দুই বন্ধুকে নিয়ে রাজধানীর নীলক্ষেতের ‘লাভলী হোটেলে’ খেতে যায়। খাবারশেষে বিল না দিলে প্রতিবাদ করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্র ঢাকা কলেজের ছাত্র বন্ধু কামালের কাছে যায়। ‘দক্ষিণায়ন’ হলে কামালের সাথে সে সাক্ষাত্ করে। এ সময় জীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ ছাত্রকে মারধর করে। প্রতিবাদ করলে কামালকেও মারধর করে রনি ও তার অনুসারীরা। কামাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লবের গ্রুপে এবং জীবন সাধারণ সম্পাদক সাকিব হাসান সুইমের গ্রুপে জড়িত। দুপুরের মারধরের পর উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কামাল ও তার সহযোগীরা কলেজের মূল ফটকে জীবনকে বসে থাকতে দেখে। সেখানে তারা রড, হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে জীবনকে উপর্যুপরি আঘাত করে। জীবনের মাথা, ঘাড়, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। রাত পৌনে আটটার দিকে জীবনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রনি ও তার অনুসারীরা। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে একে একে পপুলার হাসপাতাল, শ্যামলী মেডিক্যাল কেয়ার, ল্যাব এইড, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সার জন্য নেয়া হয়। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে তাকে এপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রাতে চিকিত্সক জানিয়েছেন, জীবনের অবস্থা আশংকাজনক। তার মাথার খুলি ভেঙে মগজে আঘাত লেগেছে। শুক্রবার রাতে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন শংকামুক্ত নয়। ছাত্রলীগ ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব জানান, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতে ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ শাখার ১০ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বহিষ্কৃতরা হলো- দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সুমন (ব্রেট লি), রাজন, মনির, কাওসার, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস থেকে জেমস, কামাল, মাহাবুব, আব্দুল্লাহ, প্রশান্ত এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস থেকে রনি। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত আদর (৩য় বর্ষ), অভি (২য় বর্ষ), রাহাত (২য় বর্ষ), কিরন (২য় বর্ষ), পলাশ (২য় বর্ষ), রাকিব (২য় বর্ষ), শুভ (২য় বর্ষ), পিয়ারুলের (২য় বর্ষ) ছাত্রলীগে কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ শাখা। দোষী কর্মীদের রক্ষা করতে ছাত্রলীগ এ কৌশলের আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের কর্মী ও সাধারণ ছাত্ররা। শুক্রবার রাতে এবং গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিব হাসান সুইম এই প্রতিবেদককে বলেন, জীবনকে একটি প্রাইভেট গাড়ি ধাক্কা দেয়ায় গুরুতর আহত হয়েছে। পরিস্থিতি তেমন গুরুতর নয়। কেই জীবনকে মারধর করেনি। রাত সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বলেন, বন্ধুদের সাথে হাতাহাতির সময় একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় জীবনকে। সে গুরুতর আহত হয়েছে’। বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়েশা বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তাকে পাওয়া যায়নি। কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আকবর হোসেন বলেন, জীবনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সে অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিত্সাধীন। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে জীবনের উপর হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগের নেতারা। তারা নিজেরা আপোসরফা করবে বলেও জানিয়েছে। এরপরও অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।