আজ রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দেয়া কিংবা না দেয়ার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে আর কোনো নতুন মামলায় না জড়িয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মুক্তি দেয়া হলে এই অধিবেশনেই যে কোনদিন যোগ দেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক গতকাল ইত্তেফাককে জানান, এবারের অধিবেশনেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের বিল উত্থাপন ও পাস, বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবিতে ১৮ দলের সংসদ সদস্যরা আজ সকাল ১১টা থেকে সংসদের প্রবেশমুখে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের এসব দাবি মেনে নেয় তাহলে এই অধিবেশনেই আমরা যোগ দেব। অন্যথায় এই সংসদে আমরা আর নাও ফিরতে পারি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, এই অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য আমরা মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের সাম্প্রতিক আচার-আচরণে আমরা হতাশ। যেই মুহূর্তে আমরা সংসদে যোগ দেয়ার কথা ভাবছিলাম তখনই সরকার বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে একটির পর একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেফতার দেখাচ্ছে, প্রতিদিন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে হয়রানি করছে। সরকার ইচ্ছা করেই পরিবেশ নষ্ট করেছে। এ অবস্থায় সংসদে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সরকার যদি এ পথ থেকে সরে আসে এবং তত্ত্বাবধায়কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখায় তাহলে আমরা সংসদে ফিরতে রাজি আছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ইত্তেফাককে জানান, আমরা যতোই বলি না কেন, সরকার এত সহজে তত্ত্বাবধায়কের দাবি মানবে না। বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ‘দুর্নীতি’ মামলা নিয়েও আমরা চিন্তিত নই। কারণ এই মামলা শেষ পর্যন্ত টিকবে না। সরকার যদি মির্জা ফখরুলকে মুক্তি দেয় এবং বিরোধী দলের সঙ্গে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক আচরণও করে তাহলে আমরা সংসদে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
