সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৭ জানুয়ারি। দিবসটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান হবিগঞ্জ ও ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে প্রয়াত কিবরিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। হবিগঞ্জের বৈদ্যার বাজারে গ্রেনেড হামলার স্থলে জেলা শ্রমিক লীগ পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ঢাকার বনানীতে শাহ এ এম এস কিবরিয়ার কবরে মরহুমের পরিবার থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে এবং দুপুরে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যর বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও তত্কালীন এমপি শাহ এ এম এস কিবরিয়া। এই নির্মম হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিত্সার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এই হামলায় আরো নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। মারাত্মকভাবে আহত হন হবিগঞ্জ-লাখাই আসনের বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ শতাধিক লোক।
১৯৯৪ সালে কিবরিয়া আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দলের উপদেষ্টা মনোনীত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) আসনে বিজয়ী হন।
আট বছরেও বিচার কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ নিহতদের স্বজনরা
মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আজ ২৭ জানুয়ারি আট বছর পূর্ণ হচ্ছে হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার ট্র্যাজেডির। ২০০৫ সালের এ দিনে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ পাঁচজনকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। আট বছরেও বিচার কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটি পুনরায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এখন তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে বলে জানান সিআইডির সিলেট রেঞ্জের এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল।
গ্রেনেড হামলায় শাহ এএমএস কিবরিয়ার সাথে তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা ছাড়াও নিহত হয়েছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল হোসেন, সিদ্দিক আলী ও আব্দুর রহিম। হামলায় আহত হন ৭০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর নিহত ৩ জনের পরিবারকে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১ লাখ টাকা করে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৫০ হাজার টাকা করে দেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমপ্রতি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ এবং আহতদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে দেন। এ টাকায় তারা এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর ভুঁইয়া বাবুল বলেন, অধিকতর চার্জশিটে প্রচুর তথ্য-উপাত্ত থাকলেও শুধু লুত্ফুজ্জামান বাবর ছাড়া কাউকে আসামি করা হয়নি। তাই শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়ার পক্ষে আমি নারাজি আবেদন করলে বিচারক শুনানিশেষে মামলাটি পুন:তদন্তের আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন সিলেটের সিআইডির এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। এ তদন্তেও যদি গ্রেনেড সরবরাহকারী এবং মদদদাতাদের নাম বের না হয় তাহলে আবারও আমরা নারাজি দিতে পারি।
জনাব কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা চাই আসল মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষকদের বের করা হোক। যদি তা না হয়, তবে আমরা এ চার্জশিটের বিরুদ্ধেও নারাজি দেব। মানুষ খুন হবে কিন্তু তার বিচার হবে না তা হতে পারে না। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
গ্রেনেড হামলায় আহত বর্তমানে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোঃ আবু জাহির বলেন, অবিলম্বে মামলার তদন্তের কাজ শেষ হবে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই এর বিচার কাজ শুরু করা হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল বলেন, আশাকরি যে চার্জশিটটি দেব তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে আছে। খুব শীঘ্রই তা আদালতে জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।
