দেশের বৃহত্ অংশের উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ইশ্বরদী, পাবনা ও শ্রীমঙ্গল রয়েছে তীব্র শৈত্য প্রবাহের আওতায়। এসব এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সীতাকুন্ড, ফেনী, চাঁদপুর অঞ্চল এবং ঢাকা, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ। এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ আরও তিন দিন শৈত্য প্রবাহ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে ২৮ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল অবধি দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী অববাহিকা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। একই সঙ্গে আকাশ কিছুটা মেঘলাও রয়েছে। কুয়াশা ও মেঘের কারণে দিনের বেলা সূর্যের তাপ ঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে রাতে তাপমাত্রা বেশি নেমে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কনকনে ঠান্ডা বাতাসে মানুষের শীতের অনুভূতি ছিল প্রবল। আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ওপর দিয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এবারের শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। এটি চলতি শীত মওসুমে তৃতীয় দফা শৈত্য প্রবাহ।
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার গাইবান্ধায় তৃতীয় দফায় শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে জেলার সর্বত্র শীতের অনুভূতি ছিল তীব্র। দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া তিন দফার শৈত্য প্রবাহে ইরি বোরো চারা ও সব্জি ক্ষেতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চলতি রবি মৌসুমে শাক সব্জি ও ইরি বোরো ধানের উত্পাদন হ্রাস পেতে পারে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রের আশঙ্কা।
জীবননগর সংবাদদাতা জানান, তৃতীয় দফার শৈত্য প্রবাহে গত দু দিনে এ উপজেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ও গতকাল শনিবার উপজেলার মৃগমারী গ্রামের মইদুল ইসলাম (৪২), সুটিয়া গ্রামের ইমারা মিয়া (৬৫), মুক্তারপুর গ্রামের মলুক চাঁদ (৭০) ও কালা গ্রামের ইসাহাক আলীর স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬০) মারা গেছেন।
দিনাজপুর থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে হিমেল বাতাস ও তার সঙ্গে তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সন্ধ্যার পর মানুষ বাইরে থাকতে পারছে না। দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো দেখা মেলে না। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ শীতের প্রকোপের কারণে কাজে যেতে পারছে না। জেলা শহর থেকে ১১টি রুটে যানবাহন চলাচল ঘন কুয়াশার কারণে বিঘ্ন ঘটছে। শীতের কারণে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ৩ দিনে শিশু বিভাগে শতাধিক রোগী চিকিত্সার জন্য ভর্তি হয়েছে।
নাগেশ্বরী সংবাদদাতা জানান, গত ৩ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন পৌর এলাকার মধুর হাইল্ল্যা গ্রামের বাহার উদ্দিন (৬৫), ষোলোর খামার গ্রামের বক্তার আলী (৮৫), বানুর খামার গ্রামের নবিজন বেওয়া (৬৮), ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের সেকেন্দার আলী (৭০), একই ইউনিয়নের গাতিরচরের ছালেহা বেওয়া (৫৬) ও বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী গ্রামের হাসেম আলী (৭৫)।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানায়, ঈশ্বরদীতে এর আগে ২০১১ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ডের পর এবারে গত ৯ জানুয়ারি তাপমাত্রা আরো নেমে ৩.৯ ডিগ্রি হয়। সেই সাথে ঘন কুয়াসার কারণে বেলা ১১টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের দেখা মিললেও কনকনে হিমেল বাতাস রোদের তীব্রতাকে হার মানিয়ে তাপমাত্রা ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় আবারও ঈশ্বরদীর মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
