আজ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৩
বিশিষ্ট সাংবাদিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সংগঠক ওয়াহিদুল হকের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালে ৭৫ বছর বয়সে এ দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৩৩ সালের ১৬ মার্চ কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের ভাওয়াল মনোহরীয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ওয়াহিদুল হকের পুরো নাম আবুল ফারাহ মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হক। তার পিতার নাম আবু তৈয়ব মাজহারুল হক এবং মাতার নাম মেওয়া বেগম। বাংলাদেশের সংস্কৃতির পথ নির্মাণে তিনি হলেন অগ্রপথিক। ওয়াহিদুল হক সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান দেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। বাঙালি হয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য তিনি আজীবন মানুষ গড়েছেন, সংঘবদ্ধ করেছেন, পথ দেখিয়েছেন। তিনি বাংলার মানুষ, শিক্ষা-সংস্কৃতি আর মননের আজীবন সঙ্গী। ষাটের দশকের গোড়াতে ছায়ানট আন্দোলন ও একে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এছাড়াও আবৃত্তি প্রতিষ্ঠান ‘কণ্ঠশীলন’, মৃত্যুর কিছুদিন আগে গড়ে তোলা ‘নালন্দা’ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা এবং এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠা করা ওয়াহিদুল হকের সবচেয়ে বড় অবদান। পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ গঠন করে সারা দেশে রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চায় মানুষকে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তাঁর অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠেছে আনন্দধ্বনি, বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি, সরোজ সংস্কৃতিবৃত্ত প্রভৃতি সংগঠন। ওয়াহিদুল হক পেশায় সাংবাদিক হলেও তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র ছিল সংস্কৃতি অঙ্গন। তিনি একাধারে ছিলেন মেধাবী সাংবাদিক, রবীন্দ্র সংগীতের শিক্ষক, সংগঠক ও বাঙালি সংস্কৃতির একনিষ্ঠ প্রচারক। রবীন্দ্র সংগীত ছিল তাঁর বিচরণ ক্ষেত্র। ওয়াহিদুল হক ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ‘ছায়ানট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ১৯৯৯ থেকে আমৃত্যু সহ-সভাপতি ছিলেন। ছায়ানটে স্মরণ অনুষ্ঠান আজ ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানট আজ রবিবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছে। সকাল সাতটায় ছায়ানট সঙ্গীত ভবনে শুরু হবে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব। শিল্পীরা গানে গানে তাঁকে স্মরণ করবেন। এরপর সন্ধ্যা সাতটায় রয়েছে স্মরণ অনুষ্ঠান। এতে রয়েছে আলোচনা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান।