ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাটি প্রভাবশালী আইনজীবী নারীদের মধ্যে শীর্ষে থাকা ১০০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যারা আইনকে শুধু পেশা হিসেবে না নিয়ে, মানুষের সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের প্রেরণা হিসেবে, তাদেরকে পথ চলতে শক্তি যোগাবে। যাদের মধ্যে, লুইস আর্বোর, ব্রেন্ডা হেল, হেলেনা কেনেডি, সনিয়া সোটোমেয়র, জয়শ্রি সাটপুট উল্লেখযোগ্য
লুইস আর্বোর
আইনি লড়াকু খ্যাত লুইস আর্বোর জন্ম মন্ট্রিয়েল শহরে। লুইস মন্ট্রিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়ানি আইনের উপর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে লুইস সুপ্রিম কোর্টের অন্টারিও পদে নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে তিনি একজন উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত বিচারক হিসেবে নিযু্ক্ত হন। এছাড়া লুইস যুগোস্লাভিয়া এবং রুয়ান্ডাতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ কিছু অপরাধ কর্মকাণ্ড এবং সীমান্তরক্ষীদের গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রমটি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি কিরগিজিস্তান নেতাদের সুদানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এখনো লড়ে যাচ্ছেন। লুইস ১৯৯৬ সালে ফরাসি-কানাডীয় আইনজীবী এবং সাবেক যুগোস্লাভের বিতর্কিত প্রেসিডেন্টের সময়, যুগোস্লাভিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ২০০৪ এবং ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ে, চীন এবং ইজরাইলসহ কয়েকটি দেশে তার শক্ত অবস্থানের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উচ্চ কমিশনার হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।
---
ব্রেন্ডা হেল
অসন্ধিত্সু এবং উত্তেজনাপ্রিয় ব্রেন্ডা হেলের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৩১ জানুয়ারি। আইনি জগতে ব্রেন্ডাই প্রথম নারী এবং কনিষ্ঠ বিচারক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের মহিলা ন্যায় বিচারক হিসেবে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তাকে বিনয়ী এবং নারীবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কারণ বিচার ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে প্রচারণার পাশাপাশি পারিবারিক আইনের সূক্ষ্ম বিষয় এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা রোধে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ব্রেন্ডা। এছাড়া ৮০ শতাব্দীর নারীদের কর্মক্ষেত্রের অধিকার জরিপ, পরিবার এবং রাষ্ট্র সংক্রান্ত প্রথম জরিপ কার্যক্রমটি তিনি সম্পন্ন করেন। ব্রেন্ডা ১৯৮৯ সালে যুক্তরাজ্যের ছিন্নমূল শিশুদের কল্যাণে শিশু অধিকার আইন প্রতিষ্ঠা করেন। ৬৬ বছর বয়সি এই আইনজীবী ২০০৪ সালে অর্ডিনারি হাউস অফ লর্ডস এ স্থায়ীভাবে যোগদান করেন। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ব্রেন্ডাই সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন মহিলা বিচারক হিসেবে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
---
হেলেনা কেনেডি
শ্রমিক বাবার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ৬১ বছর বয়সি হেলেনা কেনেডি ক্যাথলিক এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বাসী। তিনি বিশ্বাস করেন যে, মানুষের মূল্যায়ন হয় তার কর্ম দিয়ে। এই বিশেষ গুণটির কারণেই কেনেডি সকলের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি মূলত লিঙ্গ বৈষম্যের উপর কাজ করে থাকেন। নারীদের উপর অভ্যন্তরীণ সহিংসতার বিরুদ্ধে, নারীদের নিরাপত্তা প্রদান এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। ১৯৯০ সালে তিনি মানবাধিকারের আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হন। গুইলফোর্ড চার এবং গুপ্তচর মাইকেল বেটেনির উপর কাজ করে আইনি জগতে শিরোনাম বনেছিলেন কেনেডি। কর্তব্যপরায়ণ হওয়া সত্ত্বেও ব্লেয়ালার সরকারের সময়ে তাকে কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে সুবিধাবঞ্চিত এবং দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য অর্থায়ন করে থাকেন।
