কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
বাংলাদেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বাস করে গ্রাম অঞ্চলে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তাই সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। যার দরুন সত্যিকার অর্থেই সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে ১৯৯৮ সালে কমবেশি ৬০০০ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে মোট ১৩৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ২০০১ সাল নাগাদ ১০৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হয় এবং বেশিরভাগ চালু হয়। কিন্তু রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ অবস্থা চলে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে আরো কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। মোট ১৩৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের অধিকাংশেই একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সি,এইচ,সি,পি) নিয়োগ দেয়া হয় এবং স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা প্রদান করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে নজিরস্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যেক সিএইচসিপিকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, প্রকল্পটির মেয়াদের শেষ তারিখ ২০১৪-এর ৩০ জুন। এর মধ্যে অনেক সিএইচসিপির সরকারি চাকরির বয়স চলে যাবে। ফলে তারা একটা অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক প্রকল্পই এক পর্যায়ে জাতীয়করণ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন এই যে, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটিকে জাতীয়করণ করে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার প্রদান করুন এবং দেশের প্রায় ১৩৫০০ জন শিক্ষিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিএইচসিপিদের বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচান। জুয়েল মাহমুদ, সখীপুর, টাঙ্গাইল