বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর বালু মহালগুলো তিন বছর ধরে ইজারা দিতে না পারায় সরকার বিপুল পরিমাণ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার ঘোষিত বালু মহাল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোল করে পৌর এলাকার কালিতলা, সাহাপাড়া, বাগবেড় এলাকায় বালু মজুত করা হচ্ছে। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সিএফটি বালু ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করার কারণে কয়েকশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদর রক্ষার্থে নির্মিত কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অফিস থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসন থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত যমুনা নদীর বালু মহালগুলো হচ্ছে দক্ষিণ দিঘলকান্দি, কাজলা, বেনিপুর ও কুড়িপাড়া এলাকা। ঘোষিত এসব বালু মহালের মধ্যে থেকে কাজলায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সিএফটি, দক্ষিণ দিঘলকান্দি, বেনিপুর ও কুড়িপাড়া প্রত্যেক বালু মহাল থেকে প্রায় ২ লাখ সিএফটি করে ৪টি বালু মহাল থেকে সর্বমোট প্রতিবছর কমপক্ষে ৭ লাখ ৭৫ হাজার সিএফটি বালু উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এসব বালু মহাল থেকে প্রতিবছর সরকারের অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একটি মহলের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে বালু মহালগুলো গত তিন বছর ধরে ইজারা দেয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক রাজস্ব শাখা থেকে বার বার দরপত্র আহ্বান করে বালু মহাল ইজারা দিতে পারছে না। সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার কালিতলা, বাগবেড় গ্রামে অবস্থিত ‘সারিয়াকান্দি যমুনা নদী বালু উত্তোলন ও ব্যবসায়ী একতা সমিতির’ নামে একটি সমিতি করা হয়েছে । সমিতির পক্ষ থেকে সারিয়াকান্দি বালু উত্তোলন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ করায় সরকার বালু মহাল থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
পৌর এলাকার সাহাপাড়া গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর রনজিত কুমার জানান, ইতিপূর্বে বালুু মহাল ইজারা নিয়ে বাধার কারণে বালু উত্তোলন করতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এব্যাপারে ওই সমিতির নেতা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী ফকির, সাধারণ সম্পাদক গিরিন চন্দ্র বলেন, আমাদের অন্য কোন ব্যবসা নেই। বালু ব্যবসা আমাদের একমাত্র সম্বল। আমরা বহু কষ্টে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর বালু ব্যবসা করে আসছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান খান জানান, বগুড়া জেলা প্রশাসক সারিয়াকান্দির বালু মহালগুলো ইজারা দেয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার দায়ে ২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক ৬ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনবল সংকটের কারণে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব সময় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।
