দীর্ঘ এক বছর বিরতির পর আবারো অতিথি পাখির কল-কাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক। চিত্তা, খঞ্জনা, মানিকজোড়, সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার প্রভৃতি পাখির দিনভর ওড়া-উড়ি আর লেকের পানিতে খুনসুটি ও ডুবসাঁতার দেখে পাখিপ্রেমীরা রীতিমতো অভিভূত। প্রতিবারের মতো এবারও অতিথি পাখিদের স্বাগত জানাতে ‘পাখি মেলা’র আয়োজন করে জাবি কর্তৃপক্ষ। ‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ এ স্লোগানকে ধারণ করে গত ২৫ জানুয়ারি এই মেলার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই মেলায় ছোটদের পাখি বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, বই-পোস্টার প্রদর্শনী, পাখি দেখা ও চেনার প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক বিতর্ক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পাখি মেলার মূল উদ্যোক্তা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ বলেন, অতিথি পাখি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এ আয়োজন। প্রতিবছর শীতের আগমনের সাথে সাথে অতিথি পাখি ক্যাম্পাসকে নৈসর্গিক এক সৌন্দর্য দান করে। গত বছর পাখি না আসলেও এবছর শীতের শুরুতেই আসতে শুরু করে অতিথিরা। তাই এদের বরণ করে নিতে প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। পাখি মেলা তারই অংশ।
অধ্যাপক মোস্তফা জানান, প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসে। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। মার্চের শেষ দিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট-বড় প্রায় ১২টি লেক রয়েছে। এখানে প্রতিবছর যে পাখিগুলো আসে তার মধ্যে চিত্তা, খঞ্জনা, মানিকজোড়, সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক ও পাতারী অন্যতম। তিনি বলেন, গত বছর পাখি না আসায় পাখিপ্রেমীরা হতাশ হয়েছিলেন। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ আর লেকে চুন ব্যবহারের ফলে গত বছর অতিথি পাখি লেকগুলোতে নামেনি। তবে এবার ঝাঁকে ঝাঁকে এসেছে শীতের অতিথি পাখি। তাদের কলতানে মুখর এখন গোটা ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে মূলত ১৯৮৬ সাল থেকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। সে সময় থেকে ক্যাম্পাসে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটলেও গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে পাখির বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। জলাশয়গুলো রক্তশাপলা এবং পাখির খাদ্য জলজ উদ্ভিদে ভরে গেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ, ওষুধি ও শোভাবর্ধক ফুল গাছের চারা রোপণ করায় ক্যাম্পাসে পাখি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের সমাবেশ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।
