শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ও শিল্প-কারখানায় পুরানো যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি-অদক্ষ বয়লার ও জেনারেটর ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ উত্পাদনকারীরাও পুরনো ও অনুপযোগী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় সেখানে তেলের অপচয় হচ্ছে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাক্ষিক ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন’ এবং জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্টের (জিআইজেড) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোলার ওয়াটার হিটিংয়ের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুবিদ আলী ভুঁইয়া, বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামালুদ্দিন, জিআইজেডের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এরিক ওটো গম, বুয়েটের অধ্যাপক ড. জেবুন নাসরিন আহমেদ, ড. শহিদুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যবসায়ী মুনাফার লোভে কারখানায় পুরানো যন্ত্রপতি স্থাপন করছেন। এসব যন্ত্রপতি ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত গ্যাস ও বিদ্যুত্ ব্যবহূত হচ্ছে। বয়লারনির্ভর শিল্পসহ অনেক খাতেই জ্বালানি-দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি ঘাটতি জনিত সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানি উত্পাদন ও ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শাহজালাল সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সোলার ওয়াটার হিটিং সিস্টেমটি চালু হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। বাংলাদেশের কার্যকর ও জলবায়ু তহবিল ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি জোগান গড়ে তোলা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে দেশে ২০ হাজার সোলার টেকনিশিয়ান তৈরি করা হয়েছে।
সুবিদ আলী ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৩ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়িয়েছে। দেশে গ্যাস সঙ্কট ব্যাপক। সাবসিডি দিয়ে গ্যাস বিদ্যুত্ বিক্রি হচ্ছে। ট্যানারি শিল্পে সোলার হিটিং চালু করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা এটি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. হিমাংসু রঞ্জন ঘোষ, প্রকৌশলী ইসমাইল রায়হান এবং প্রকৌশলী আবু সাইদ ভুঁইয়া। তারা বলেন, হাসপাতাল, অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল, শিল্পের ক্ষেত্রে এবং ট্যানারি, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইয়িং, হ্যান্ডলুম, ডেইরি মিল্ক এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে বিদ্যুত্ বা গ্যাস ব্যবহার না করে সোলারের মাধ্যমে ৬০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি গরম করা সম্ভব। ট্যানারিতে সোলার বিদ্যুতে পানি গরম করা হলে প্রায় ৪৯ ভাগ গ্যাস সাশ্রয় করা যাবে। একইভাবে ৪৫ ভাগ গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব টেক্সটাইলে। সাভারে ১৫৫টি ট্যানারি স্থাপনের ফলে প্রায় ২১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বাতাসে কাবর্নের পরিমাণও কমবে। কিন্তু সচেতনতা ও উদ্যোগের অভাবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপকভাবে করা যাচ্ছে না। দেশের ট্যানারি শিল্পে তিনভাগের দুইভাগ গ্যাসই ব্যবহার হয় পানি গরম করতে। এক্ষেত্রে এক হাজার লিটার পানি গরম করতে সক্ষম সোলার হিটারে খরচ পড়বে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চামড়ার প্রতি বর্গফুটে ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা খরচ কমে আসবে। তারা জানান, সোলার ওয়াটার হিটিংয়ের ক্ষেত্রে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন তা তিন থেকে চার বছরের মধ্যে মুনাফার মাধ্যমে অর্জন সম্ভব।
