চট্টগ্রামে চালের বাজার অস্থির। প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারী বাজারের সাথে খুচরা বাজারে দরের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। বাজারে চাল প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম চড়া। আমদানিকারক ও পাইকারি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সুযোগে এক বছর আগে আমদানি করা চাল বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আগামী বোরো ধান আসা পর্যন্ত চালের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে চালের পাইকারী ও খুচরা বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। কয়েক মাস চালের মূল্য অনেকাংশে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল। পাইকারী ও খুচরা বাজারে চালের সরবরাহ নিয়ে কোন ঘাটতি নেই। তারপরেও চালের হঠাত্ মূল্যবৃদ্ধির কোন হিসাব মিলছে না। খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চালের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। সূত্র জানায়, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে দেশে প্রচুর চাল আমদানি হতো। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত প্রায় এক বছর ধরে চাল আমদানি হচ্ছে না। পূর্বে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ চাল এখনো আমদানিকারকদের গুদামে মজুদ রয়েছে। বাজারে চালের দাম কম থাকায় এতোদিন তারা গুদামে মজুদ থাকা চাল বাজারে ছাড়েনি। এখন বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আমদানি করা এসব চাল বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামে এখনো আমদানিকারকদের গুদামে লক্ষাধিক মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে বলে তিনি জানান।
গতকাল রবিবার নগরীর বহদ্দারহাটে বিভিন্ন দোকানে দেখা গেছে, মিনিকেট প্রতি কেজি ৩৮ টাকা, জিরা সিদ্ধ ৪৫ টাকা, পারি সিদ্ধ ৩৫ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ ৪৮ টাকা, কাটারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও চিনিগুঁড়া ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চালের বাজার মূল্য নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো সরকারকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তাদের তালিকায় উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বাজারে খুচরা মূল্যের কোন মিল নেই।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে সমপ্রতি শৈত্যপ্রবাহের কারণে ধান শুকাতে পারেনি। ফলে চাল কলগুলো বন্ধ ছিল। নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চাল আনে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত চাল না আসায় চট্টগ্রামের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনামুল হক এনাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত দেড় বছর যাবত্ চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দেশে চালের বাজার কম। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম হওয়ায় চট্টগ্রামে চালের মূল্য কিছুটা বেড়েছে।’
