যাত্রা শুরু করার আট বছরেও উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারেনি দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ । কেন্দে র বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫০ মেগাওয়াট; কিন্তু বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে গড়ে ১৪০ মেগাওয়াট। এখনো চালু হয়নি তিন নম্বর ইউনিটটিও। বিদ্যুত্ কেন্দে র একাধিক সূত্র জানায়, লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে না পারার মূল কারণ কর্তৃপক্ষের অবহেলা। আর কর্তৃপক্ষ বলছে যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ যাত্রা শুরু করে। সে সময়ে ১২৫ মেগাওয়াট করে দুইটি ইউনিটে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যান্ত্রিক কর্মক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে একটি ইউনিট বন্ধ রাখলেও যাতে ওই সময়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায় সেজন্য তিন নম্বর ইউনিট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্থাপন করা হয় তিন নম্বর ইউনিট; কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিটটি চালু করা হয়নি। এবং এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এখন দুইটি ইউনিট দিয়েই বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। যন্ত্রিক চাপ এড়াতে একটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সে সময় বিদ্যুত্ কেন্দে র বিদ্যুত্ উত্পাদন কম হচ্ছে। অর্থাত্ জাতীয় গ্রিডে ১০০-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ সূত্র জানায়, দুইটি ইউনিট স্থাপনে চীনা ঠিকাদারি কোম্পানি সিএমসির মাধ্যমে যন্ত্রপাতি আনা হয়; কিন্তু ওই কোম্পানি নিম্নমানের যন্ত্র সরবরাহ করে। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যান্ত্রিক জটিলতা। বারবার উত্পাদন বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ টির। প্রায়ই এখানে কম্পিউটার রুমের যন্ত্র, আইডি ফ্যান, রিলে-ব্যাটারি চার্জিং রুম, টারবাইন ডিসিএস এবং কম্পিউটার মনিটরিং অপারেটিং সিস্টেমে সমস্যা হয়ে থাকে।
২০০৮ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্পাদন বন্ধ থাকায় ভারত থেকে কয়লা আমদানি করে বিদ্যুত্ কেন্দ টিকে সচল রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় ঠিকাদার ভারতীয় পাথর মিশ্রিত নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ করে। যার ফলে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দে র যন্ত্রাংশে ক্ষতি হয়। ২০১১ সালে এ কারণে ইউনিট দুইটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে চীনা বিশেষজ্ঞ দল এসে ইউনিট দুইটিকে মেরামত করে।
বর্তমানে এই কেন্দে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে গড়ে ১৪০ মেগাওয়াট। এ পর্যন্ত এই কেন্দে সর্বনিম্ন ৪৫ মেগাওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ১৯৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে। ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু হলে আরো ৭০-৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বেশি উত্পাদন হতো বলে কর্মকর্তারা জানায়।
তাপ বিদ্যুত্ কেন্দে র কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই বিদ্যুত্ কেন্দে দায়িত্ব নিয়ে যারা আসেন তারা অদৃশ্য কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানের লোক বনে যান। তারা চীনা প্রতিষ্ঠানের কথামতই কাজ করেন।
এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুত্ কেন্দে র প্রধান প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক বলেন, বিদ্যুত্ কেন্দে র যন্ত্রপাতিগুলো পুরনো হয়ে গেছে। তাই বিদ্যুত্ উত্পাদন কম হচ্ছে। যান্ত্রিক সমস্যা হতেই পারে। তবে তিন নম্বর ইউনিটটি কেন চালু করা হচ্ছে না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলেই ইউনিটটি চালু করা হবে।
