নওগাঁ নাটোর পাবনায় নিপাহ্ ভাইরাস ৩ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
নওগাঁ, নাটোর ও পাবনায় নিপাহ ভাইরাস দেখা দিয়েছে। এতে চলতি মাসে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এবং নাটোরের নলডাঙ্গায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত আরো দুই শিশু চিকিত্সাধীন রয়েছে। মৃতরা হলো, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের ছেলে সাগর (৮) নাটোরের নলডাঙ্গার পিপরুল গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (২৮) ও পাবনার চাটমোহরের কাটাখালি গ্রামের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩)। এদিকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বনগ্রামের আলাল উদ্দিনের মেয়ে আলফা (৩) সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি থেকে রামেক চিকিত্সাধীন রয়েছে। চিকিত্সকরা তার শরীরে নিপাহ ভাইরাস পজেটিভ নিশ্চিত হয়েছেন। চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৩) রামেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ২৪ জানুয়ারি মারা যান। তিনি খেজুরের রস পানের পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নামে কোন রোগী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে রামেক হাসপাতালের রেকর্ডে তথ্য নেই বলে চিকিত্সকরা জানান। অন্যদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মিল্লাতকে (৮ মাস) গত শনিবার নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে রামেক হাসপাতালের পরিবর্তে বাড়িতে নিয়ে চিকিত্সা দিচ্ছেন। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি শিশু মিল্লাতের মা আম্বিয়া খাতুন (২৮) খেজুরের রস পানের পর প্রচন্ড জ্বর ও মাথা ব্যথা নিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়। আম্বিয়া নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। কিন্তু নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, মৃত আম্বিয়ার রক্ত ও লালা পরীক্ষা করা হয়নি। তাই নিপাহ ভাইরাসেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত নন। তবে মৃত আম্বিয়ার পুত্র মিল্লাতকে ২২ জানুয়ারি নাটোর হাসপাতালে ভর্তির পর তার জ্বর না কমায় তার সন্দেহ হয়। তিনি মিল্লাতের লালা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রিপোর্টে মিল্লাতের শরীরে নিপাহ ভাইরাস পজেটিভ নিশ্চিত করা হয়েছে। ঝিনাইদহে একজনের মৃত্যু ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার দুধসর গ্রামে রিংকু (১১) নামে এক কিশোর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। রিংকুর বাবা রাব্বুল হোসেন একজন গাছি। রিংকু নিয়মিত খেজুরের রস পান করত। সে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জানুয়ারি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। প্রথমে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। ১৭ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়। নিপাহ ভাইরাসে রিংকুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিত্সকরা। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসরিন সুলতানা জানান, নিপা ভাইরাসে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মানুষকে সচেতন করতে ও সতর্ক থাকতে ৬ উপজেলায় ৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলাতে র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।