আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত ফখরুলকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
আগামী দুই মাস যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত নতুন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার বা হয়রানি করাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেন, এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা হয়েছে। অন্য মামলাগুলোতে যাতে তাকে হয়রানি না করা হয় সেইজন্য এই রিট করা হয়েছে। আমরা মনে করি আগের মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় হয়নি। আইনের অপ্রয়োগ, অপব্যবহার এবং আইনের সাধারণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত করে সরকার এ কাজ করেছে। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তা সবই আমলযোগ্য। এসব মামলায় পুলিশ পরোয়ানা ব্যতীত তাকে গ্রেফতার করতে পারবে। তিনি বলেন, আদালতে আবেদন দিয়েই পুলিশ মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুলের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করেন এডভোকেট সগীর হোসেন লিয়ন। আবেদনে বলা হয়, উচ্চ ও নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরেও একের পর এক মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। যেসব মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে এসব মামলার এজাহারের আসামির কলামে তার নাম নেই। শুধু এজাহারের বর্ণনায় নাম থাকায় মির্জা ফখরুলকে বারবার গ্রেফতার দেখাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এটা সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। আদালতে ফখরুলের পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এমকে রহমান শুনানি করেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীসহ অর্ধ শতাধিক আইনজীবী শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, পুলিশকে হত্যা চেষ্টা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় মির্জা ফখরুলকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। এ সময় তার জামিন আবেদনও নাকচ করে দেয় আদালত। গতকাল এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। ফখরুলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়া, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগে কলাবাগান থানার মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন ফখরুল। বিচারক মো. জহুরুল হক আগামি ৩০ জানুয়ারি এ আবেদনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এছাড়া মির্জা ফখরুলকে কারাগারের বাইরে ঢাকার বারডেম হাসপাতাল অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কিংবা সমমানের কোন হাসপাতালে রেখে চিকিত্সা সেবা দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার পক্ষে এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মঈনূল ইসলাম ভুঁইয়া কারাবিধি অনুযায়ী মির্জা ফখরুলকে উন্নত চিকিত্সা সেবা দেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে মহানগর পিপি মো. আব্দুল্লাহ আবু এবং রিমান্ড বাতিল ও জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।