১৫ শতাংশের কম ভ্যাটে রেয়াত নেওয়ার সুযোগ থাকছে না

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ২১:৪৯

উপকরণ কর রেয়াত নিতে হলে ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) প্রদান করতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অর্থাত্ এর কম হারে ভ্যাট পরিশোধ করলে তারা উপকরণ কর রেয়াত পাবেন না। যদিও সম্প্রতি একাধিক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ভ্যাটের সর্বোচ্চ হার হবে ১০ শতাংশ। যারা বর্তমানে দুই শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করছেন, তাদের ওই হারে পরিবর্তন আসবে না। এর বাইরে ভ্যাট হার হবে পাঁচ শতাংশ, সাড়ে সাত ও ১০ শতাংশ।

গতকাল প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। ইআরএফ ছাড়াও আলাদা আলোচনায় অংশ নেয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম ছাড়াও ইআরএফ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন।

ইআরএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্যারিফ ভ্যাট কিংবা প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে কি না- তা এখনো পরিষ্কার নয়। এটি নিয়ে ব্যবসায়ী, ভোক্তা এমনকি এনবিআরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও স্বচ্ছ তথ্য নেই। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা না করে, প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে আইনটি বাস্তবায়ন করলে মাঠ পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়সহ এনবিআরকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ঢাকার সড়কে যানজট কমাতে গণপরিবহন ব্যবহারে উত্সাহিত করা ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূল স্রোতে আনতে উদ্যোগ নেওয়া, রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে আইন বিষয়ে পারদর্শী, তথ্যপ্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে পারদর্শী কর্মকর্তা তৈরি করা, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিয়ে যথাযথ দায়িত্বে পদায়ন করা, সরকারের রাজস্ব কাঠামো পরিবর্তনে নেওয়া সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে- তা নিয়ে দক্ষ ও নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া, এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোসহ বেশকিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়।