প্রিয় শিক্ষার্থীরা, Srijonshil.com রচিত সৃজনশীল লেসনে তোমাদের স্বাগতম। আজ আমরা গত রবিবারে প্রকাশিত সৃজনশীল প্রশ্নটির নমুনা উত্তর আলোচনা করবো এবং সেই সাথে নবম দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য সাধারণবিজ্ঞান বিষয়ের একটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রকাশ করবো। এই লেসনটি তোমরা একযোগে পাবে www.Srijonshil.com ওয়েবসাইট ও তোমাদের পছন্দের দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।
আজকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (রসায়নবিজ্ঞান)
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও ঃ
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
রতন 0.965 N ওজনের একটি স্বর্ণের বারের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে গিয়ে এটিকে একটি বিকারে রাখা 10-4 m3 পানির মধ্যে ডুবালো। এতে 0.05 N ওজনের পানি বিকার থেকে পড়ে গেল। ঐ মুহূর্তে পানির তাপমাত্রা ছিল 20°C এবং ঐ তাপমাত্রায় পানির আপেক্ষিক
গুরুত্ব = 0.998। রতন হিসেব নিকেষ করে দেখলো তার স্বর্ণের বারটি পুরোপুরি বিশুদ্ধ ।
ক. ঘনত্ব কাকে বলে?
খ. লোহার একটি টুকরা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভাসে কেন?
গ. স্বর্ণের বারটি ডুবানোর পূর্বে বিকারে থাকা পানির ভর কত ছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নির্ণয় করো।
ঘ. স্বর্ণের বারটির বিশুদ্ধতা নিয়ে রতনের সিদ্ধান্তটি মূল্যায়ন করো।
নমুনা উত্তর
ক. বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
খ. আমরা জানি, কোনো বস্তুর ওজনের চেয়ে বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন বেশি হলে বস্তুটি ঐ তরলে ভাসবে।
একটি লোহার টুকরা পানিতে ভাসে না কারণ লোহার খন্ড দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লোহার খন্ডের ওজনের চেয়ে অনেক কম। কিন্তু লোহার তৈরি হলেও জাহাজ পানিতে ভাসে কারণ জাহাজের ভিতরটা ফাঁপা। ফলে জাহাজ যে আয়তনের পানি অপসারণ করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে বেশি হয়। এতে জাহাজ পানিতে নামালে প্রথমে ডুবতে শুরু করে। খানিকটা ডুবার পর যখন অপসারিত পানির ওজন জাহাজের ওজনের সমান হওয়ার সাথে সাথে জাহাজটি ভাসতে থাকে।
গ. আমরা জানি, কোনো বস্তুর আপেক্ষিক গুরুত্ব, S = বস্তুর ঘনত্ব ( 4°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব
বা, 20°C তাপমাত্রায় পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব = 20°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ( 1000 kgm-3
[যেহেতু, 4°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব = 1000 kgm-3]
বা, 0.998 = 20°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব x 1000 kgm-3
[যেহেতু, 20°C তাপমাত্রায় পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব = 0.998]
বা, 20°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব = 0.998 x 1000 kgm-3
বা, 20°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব = 998 kgm-3
আমরা আরও জানি, ঘনত্ব = ভর x আয়তন
বা, 998 kgm-3 = ভর x 10-4 m3
[যেহেতু, 20°C তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব = 998 kgm-3
এবং স্বর্ণের বারটি ডুবানোর পূর্বে বিকারে থাকা পানির আয়তন
ছিল 10-4 m3]
বা, ভর = 998 kgm-3 x 10-4 m3
বা, ভর = 0.0998 kg = 99.8 gm
সুতরাং, স্বর্ণের বারটি ডুবানোর পূর্বে বিকারে থাকা পানির ভর ছিল 99.8 gm
ঘ. আমরা জানি, প্রতিটি পদার্থের একটি সুনির্দিষ্ট আপেক্ষিক গুরুত্ব থাকে। তাই কোনো বস্তুর বিশুদ্ধতা তার আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে নির্ণয় করা যায়।
আমরা আরও জানি, স্বর্ণের প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্ব = 19.3। তাই রতনের স্বণের্র বারটি বিশুদ্ধ হবে যদি এর প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্ব 19.3 হয়।
কোনো বস্তুর আপাত আপেক্ষিক গুরুত্ব, S = বস্তুর ওজন x বস্তুর সমআয়তন পানির ওজন
সুতরাং স্বর্ণের বারটির আপাত আপেক্ষিক গুরুত্ব, S = 0.965 N ( 0.05 N
[যেহেতু, দেওয়া আছে বস্তুর ওজন = 0.965 N
এবং বস্তুর সমআয়তন পানির ওজন = বস্তু দ্বারা অপসারিত পানির ওজন = 0.05N ]
সুতরাং স্বর্ণের বারটির আপাত আপেক্ষিক গুরুত্ব, S = 19.3
রতন উপরোক্ত উপায়ে স্বর্ণের বারটির আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করার পর এতে কোনো রকম তাপমাত্রার সংশোধন আনেনি। বরঞ্চ, এই আপাত আপেক্ষিক গুরুত্ব স্বর্ণের প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্বের সাথে মিলে যাওয়াতে সে ভেবেছিল, বারটি বিশুদ্ধ।
কিন্তু, স্বণের্র বারটির প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্ব = পরীক্ষালব্ধ আপেক্ষিক গুরুত্ব x 20°C তাপমাত্রার পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব
= 19.3 x 0.998 = 19.26
যেহেতু রতনের স্বণের্র বারটির প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্ব (19.26) স্বণের্র প্রকৃত আপেক্ষিক গুরুত্ব (19.3) থেকে ভিন্ন, সেহেতু তার স্বণের্র বারটি বিশুদ্ধ নয়। তাই রতনের ভাবনাটি ভুল ছিল।
আজকের সৃজনশীল প্রশ্ন (সাধারণ বিজ্ঞান)
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
নিচের ছকে তিনটি দেশ A, B ও C এর জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য দেয়া আছেঃ
সময়সীমা A B C
১ ডিসেম্বর ২০১০ জনসংখ্যা
= ৫ কোটি জনসংখ্যা
= ৬ কোটি জনসংখ্যা
= ৭ কোটি
১ জুন ২০১০ – ৩১ মে ২০১১ স্থূল জন্মহার
= ২৩.৭৫
স্থূল মৃত্যুহার
= ২৩
বহিরাগমন হার
= ৩
বহির্গমন হার
= ৩.৫ স্থূল জন্মহার
= ২৭
স্থূল মৃত্যুহার = ২৬.২০
বহিরাগমন হার = ২.২৫
বহির্গমন হার = ৩ স্থূল জন্মহার
= ২১
স্থূল মৃত্যুহার
= ২০.৭৫
বহিরাগমন হার
= ১.২৫
বহির্গমন হার
= ১
ক. স্থুল জন্মহার কাকে বলে?
খ. স্থূল জন্মহার স্থূল মৃত্যুহার থেকে বেশি হলেই কি একটি দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাখ্যা করো।
গ. ১ জুন ২০১০ থেকে ৩১ মে ২০১১ সময়ে কোন দেশটির জীবন্ত শিশু জন্মানোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “জনসংখ্যা বৃদ্ধির শূন্য হার বজায়ে উক্ত তিনটি দেশের মধ্যে B সবচেয়ে ভাল অবস্থায় এবং A সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে।” - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নটির সমাধান পাওয়া যাবে www.Srijonshil.com ওয়েবসাইট এবং রবিবারে দৈনিক ইত্তেফাকে। কিন্তু তোমার জানো, জাতীয়ভাবে নেয়া পরীক্ষাগুলোতে সৃজনশীল প্রশ্ন কখনো কমন পড়বে না। এই ক্ষেত্রে দরকার পর্যাপ্ত অনুশীলন। সুতরাং পরীক্ষায় ভালো করতে হলে এরকম সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান না দেখে নিজেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করো এবং আমাদের দেয়া উত্তরের প্রেক্ষিতে নিজের উত্তরটি যাচাই করো।
তোমাদের মতামত
এই লেসনের ওপর তোমাদের মতামত লিখে পাঠাও নিচের ঠিকানায়
ইমেইল:[email protected]
মোবাইল :01681035797
