চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৬ লাখ ৫২ হাজার হেক্টরে পাট চাষের কর্মসূচি নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭৬ লাখ ১৯ হাজার বেল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা খামারবাড়ির প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর সারাদেশে তোষা জাতের পাট চাষ করা হবে ৬ লাখ ২০ হাজার হেক্টরে ও দেশি জাতের পাট চাষ হবে ৩২ হাজার হেক্টরে। হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৮৩ বেল হিসাবে ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার বেল তোষা ও হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৮৮ বেল হিসাবে ২ লাখ ৮৪ হাজার বেল দেশি জাতের পাট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পাট সদৃশ তন্তু মেস্তা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ ও কেনাফ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৭ হাজার ৪০০ হেক্টরে। এক লাখ ৬২ হাজার বেল মেস্তা ও ২ লাখ ২৭ হাজার বেল কেনাফ উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট চাষ প্রায় শেষের পথে। চাষিরা পাট চাষে এখন আর বৃষ্টির জন্য আকাশ পানে চেয়ে থাকে না। চৈত্র মাসে সেচ দিয়ে পাট চাষ শুরু করে দেয়। তবে এতে খরচ বেশি পড়ে। চাষিরা জানান, পাট চাষ ব্যয়বহুল। সেচদান, বোনা, নিড়ানো, কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোতে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাটের ফলন কম হয়। অনেক স্থানে পাট ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। ফলনও কম হয়। প্রতি মণ পাট ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। চাষিরা বলেন, এ দামে পাট বিক্রি করে লাভ থাকে না। পাট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত বছর সারাদেশে ৯১ লাখ বেল পাট ও পাট সদৃশ তন্তু উত্পাদন হয়েছিল।
