হাজীগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে এখন বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে।
উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বসানো অধিকাংশ আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে যেদিন আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বসানো হয়, সেদিনই ওগুলো নষ্ট হয়ে যায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না।
উপজেলার এক নম্বর পশ্চিম রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব অংশে তিনটি টিউবওয়েলের পাইপ বসানো আছে, যার একটিতেও টিউবওয়েল নেই। পাশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ টিউবওয়েল বসিয়েছে এবং এই পানি ব্যবহার করছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, ‘আমার বিদ্যালয়ের তিনটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের সব কয়টিই অকার্যকর। বাধ্য হয়ে স্কুলের তিনশ শিক্ষার্থী সাধারণ টিউবওয়েল থেকেই পানি পান করছে।’
সাত নম্বর মেনাপুর সরকারি আগরজান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ খান জানান, দুই বছর আগে এ বিদ্যালয়ে একটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বসানো হলেও শুরু থেকেই তা নষ্ট। টিউবওয়েলটি সচল থাকলে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা এ থেকে উপকৃত হতো।
উপজেলার এক নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম রাজারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায় জানান, ২০১০ সালে এ বিদ্যালয়ে একটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বসানো হলেও শুরু থেকে তা নষ্ট রয়েছে।
উপজেলার কৈয়ারপুলে বেতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনটি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল বসানো হয়। এর মধ্যে একটি বেশ কয়েক বছর আগে, আরেকটি কিছুদিন আগে ও সর্বশেষ নতুন ভবনের সঙ্গে একটি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। এর মধ্যে একটির হাতল নষ্ট, তবে এটি সচল রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ বিদ্যালয়ের বাকি দুইটি টিউবওয়েল সচল থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই টিউবওয়েলের হাতলটি ঠিক করছে না।
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা সন্তানদের বিষপান করাচ্ছি। সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অকেজো টিউবওয়েলগুলো মেরামত করতে পারে। টাকার অভাবে টিউবওয়েল সংস্কার করা যাচ্ছে না, এ কথা বলা যাবে না। কারণ অনেক বিদ্যালয় বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিক্ষকদের এ অকেজো টিউবওয়েল মেরামতের নির্দেশ দিলে অধিকাংশগুলো মেরামত করা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশিষ চিরানের সাথে যোগাযোগের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১২টায় তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা যায়, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল উপজেলায় বিতরণ করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস। হাজীগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ টিউবওয়েল বসানো হতো উপজেলা এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে। এ বছর থেকে আমাদের মাধ্যমে বসানো হচ্ছে। আমাদের টিউবওয়েল বসানোর কাজ এখনো চলছে।
তিনি বলেন, যে কোনো আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল নষ্ট হলে আমাদেরকে জানালে আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে থাকি। তবে কোনো বিদ্যালয় তাদের টিউবওয়েল অকেজো থাকার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি।
