চুরি, ছিনতাই, লুটপাট, ভূমি দখল, দস্যুতা, খুন, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ বিস্তারের ফলে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এখন আতঙ্কের জনপদ। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নেশাদ্রব্য পান করে আজিমপুরের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একদিকে বেকার সমস্যা, জমির দাম বৃদ্ধি, রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এখানে বেশি অপরাধ হচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন, পৌরসভা মেয়র এড. খোরশেদ আলম ভুঁইয়া জয় ও অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান বিশ্বাস। গত ৬ মাসে এখানে ২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার জামির্ত্তা বকচর এলাকাতে। সাভার থেকে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে করে শামীম ও শাওন নামে দুইজনকে ধরে এখানে এনে গুলি করে হত্যা করে। খুনের পাশাপাশি ঘটছে অগণিত ডাকাতি।
সর্বশেষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে গত ২৩ জানুয়ারি সদর থানার চর কৃষ্ণপুর এলাকায়। গত ১০ জানুয়ারি ডাকাতি হয় পানিশাইল আব্দুস সামাদের বাড়িতে। পুলিশ পরিচয়ে ডাকাত অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ৫ লাখ টাকা ৫ হাজার সৌদি রিয়ালসহ ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে।
২০ ডিসেম্বর বড়াটিয়া গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে জনতার হাতে নিহত হয় হারুন নামে আন্তজেলা ডাকাত। ১৯ ডিসেম্বর বলধারা কাস্তা গ্রামে রিজিয়া ফরহাদ, গোলাই গ্রামে আব্দুস সাত্তার ও কুদ্দুস আলী, ১৭ ডিসেম্বর উত্তর জামশা হোসেন উদ্দিন, সাহেদ আলী, ১৫ ডিসেম্বর চর মগড়া গ্রামে আনছার হোসেন, বাদশা ও আলতাফের ৬ ডিসেম্বর জামির্ত্তা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা দাসের বাড়িতে ডাকাতি হয়। নভেম্বর মাসে গোলাইডাঙ্গার মতি মাস্টার, মফিজুল ইসলাম, ফয়েজ মাওলানা, নয়াবাড়ি গ্রামে মমিন মাদবর, রামচন্দ্রপুরে শাহানুর রহমান ও তালেবপুরে সাইদ হোসেনসহ ৪ বাড়িতে এবং এর কিছুদিন আগে চারিগ্রাম বাজারে ৬টি জুয়েলার্সের দোকানে ডাকাতি হয়।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, এখানকার আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা বর্তমানে ভালো। আগের তুলনায় চুরি ডাকাতিও কম। তবে খুন-খারাবি হতেই পারে।
