গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা বললেন অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর না

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৬
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে সারাদেশে অন্তত ৫০০ জায়গায় জামায়াত-শিবিরের হামলা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত। যারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেন তারা ব্যর্থ। গতকাল রবিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনে জামায়াতের হামলায় আহত এক পুলিশ সদস্যকে দেখে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, তারা জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে মিছিল করছিল। পুলিশ বুঝতে পারেনি। আমরা ভেবেছিলাম, জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পেরেছি। আজকের ঘটনায় বোঝা গেলো পারিনি। এটা দুঃখজনক। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের হামলা ও তাণ্ডবকে তিনি গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলে মনে করেন না। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আরও গ্রেফতার করা হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে রাশেদ খান মেনন এমপি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমরা আগে থেকেই এ ধরনের হামলার আশঙ্কা করে আসছিলাম। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। আজ যা করেছে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু তারা করতে পারে। তবে তাদের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। জয়বাংলা শ্লোগানের আশ্রয় নিয়ে তাদের মাঠে নামতে হয়েছে। কারণ তারা জানত জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বাস্তবেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। দিলীপ বড়ুয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, জামায়াত-শিবির যে একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক অপশক্তি তা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে নতুন করে জানান দিল। ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে এ অপশক্তিকে রুখতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের প্রক্রিয়া যখন ঘনিয়ে আসছে তখন এসব অপশক্তি গ্রাম ও শহরে সর্বত্র নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। দেশে যাতে সাংবিধানিকভাবে না হয়ে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় তার ক্ষেত্র তৈরি করতেই তারা এমন নৈরাজ্য চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ ব্যাপারে দৈনিক ইত্তেফাককে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্যই জামায়াত-শিবির-বিএনপি সারা দেশে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা নিরীহ মানুষের গাড়ি ভেঙ্গেছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না। আমরা ৩০ লাখ শহীদের আত্মার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চাই।