রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এবং জাতীয় পার্টির (এ) বহিষ্কৃত নেতা ও রংপুর পৌরসভার (সিটি করপোরেশন হওয়ার আগে) সাবেক মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকের বাকযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঝন্টু অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আনায় মানিক বলেছেন, ‘আমি কোন অপকর্মে জড়িত ছিলাম না। দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ গতকাল সোমবার সকালে রংপুরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মানিক এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ঝন্টুর হঠকারিতায় রংপুর উন্নয়ন থেকে একশ বছর পিছিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি নোয়াখালী থেকে ভেসে আসিনি যে ঝন্টুর হুমকি-ধামকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়বো।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মানিক আরও বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই নবনির্বাচিত মেয়র ঝন্টু বেআইনিভাবে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন এবং চলমান সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দেন। গায়ের জোরে তিনি সিটি করপোরেশনের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার এই আচরণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, ঝন্টু রংপুরের উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করে যে আত্মঘাতী খেলায় মেতেছেন তা বন্ধ করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, মানিক কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। এসবের দালিলিক প্রমাণ ও তথ্য রয়েছে। সময় মতো তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঝন্টু আরও বলেন, মানিককে হয় জেলে যেতে হবে, না হয় দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদকের মাধ্যমে মানিকের সকল দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ বিচার করা হবে। তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার সচিব ও তার আত্মীয়-স্বজনকে দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচাতে মানিক মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তিনি নিজেও রক্ষা পাবেন না অন্যরাও তাদের দায় থেকে রেহাই পাবেন না।
