সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চালকরা বেপরোয়া। তাদের আচার-আচরণও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এমনকি তাদের অনেকেই ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে গাড়ি চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে পাঠকের দেওয়া মতামত আজ প্রকাশিত হলো
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, যে সমস্যাগুলো রাইড শেয়ারিং কোম্পানির গ্রাহকদের প্রায়ই পোহাতে হচ্ছে, সেগুলো হলো—অ্যাপ-এ দেখানো লাইসেন্সসহ বাইক না নিয়ে উপস্থিত হওয়া; ২. মোবাইল অপারেট করতে না জানা; ৩. ম্যাপ-এ দেখান রাস্তা বাদ দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো রাস্তায় চলা; ৪. অনেক চালকই কোন রাস্তা কী নাম না জানায়, মোড়ে মোড়ে থেমে রাস্তা চিনা; ৫. মোটরসাইকেল ঠিকমতো চালাতে না জানা; ৬. খুব দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো; ৭. মোটরসাইকেল-এর ফিটনেসে গোলমাল থাকা (যেমন, রিয়ারভিউ মিরর না থাকা, চাকায় পাম্প না থাকা, লাইট না জ্বলা, ইনডিকেটর নষ্ট ইত্যাদি); ৮. ঝুঁকি নিয়ে দুই বাসের মাঝখান দিয়ে বের হওয়া।
আকিব সালেহীন
ধানমন্ডি, ঢাকা
রাইড শেয়ারের চালকেরা অনেক সময়ই বেপরোয়া ড্রাইভিং করে থাকে। ভাঙাচোরা বাইক দিয়ে অনেকে যাত্রী পরিবহন করে থাকে। পেশাদারিত্ব না থাকা এবং মানসিক সুস্থতা যাচাই করা হয় না বলেই এসব সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়।
আসাদুজ্জামান কল্লোল
সাধারণ সম্পাদক, নবীনগর প্রেসক্লাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
‘রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা বেপরোয়া’ এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে একমত, তবে চালকদের ব্যাপারে মনে হয় ডোপটেস্ট থাকা দরকার, অনেক চালক নেশার সঙ্গে জড়িত ।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর-৬, ঢাকা
রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা বেপরোয়া ও ভয়ংকরও বটে। তাদের দেখলেও অনেকেরই রাইড এ উঠতে মন চায় না। অনেক যাত্রীও স্বাচ্ছদ্য মনে করেন না। কারণ তাদের আচার আচরণও ঔদ্ধত্যপূর্ণ, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তাই রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এখনই নজর দেওয়া খুবই জরুরি বলে আমরা মনে করি।
আল মায়ামী
ফুলবাড়িয়া, সাভার
আমরা মনে করি যে, দুর্ঘটনার প্রতিশ্রুতি প্রদান করার অগ্রগতি সম্পর্কে সবাইকে জানানো। রাইড শেয়ারিং বিষয়েও রেজিস্ট্রেশনহীন রংচটা, অদক্ষ চালক ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখেই রাস্তায় গাড়ি বের করা উচিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজদারি থাকা খুবই জরুরি।
মাসুম আহমেদ
শিকড় সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
রাজধানীতে অ্যাপস ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অনেকটাই বেকারত্ব দূর করেছিল। আবার অনেকেই যানজটমুক্ত রাজধানীতে দ্রুত চলাচলের সেবা পেতেও শুরু করেছিলেন। বিষয়টি ছিল আশা জাগানিয়া। কিন্তু সত্য আর বাস্তবতা হলো আইন উপেক্ষা করে অন্যান্য যাত্রীবাহনের মতোই রাইড শেয়ারিং-এর চালকেরা হয়ে উঠছে বেপরোয়া এবং আচার আচরণে ঔদ্ধত্যপূর্ণ। শুধু তাই নয় ভুয়া তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে রাইড শেয়ারিংয়ের ব্যস্ত চালকরা। বিষয়টি কোনোভাবেই মানা যায় না। তাই আইন প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা।
মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
ঢাকা মহানগরীতে যানজটযুক্ত ব্যস্ততাপূর্ণ সময় সংক্ষেপ করার জন্য দ্রুত গন্তব্য স্থানে পৌঁছানোর জন্য এই রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমদিকে ভালো মনে হলেও দিন দিন এখন এর বেপরোয়া স্বভাব বেড়েই চলেছে। এখন ট্রাফিক আইনের সঠিক ব্যবস্থা না করা হলে এর সমস্যা সমাধান হবে না।
মো. আরিফুর রহমান
দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ
পুলিশ কর্মকর্তা যে উক্তিটি করেছেন তার সঙ্গে আমরা একমত। যেহেতু রাইড শেয়ারিং বিষয় প্রথম দিকে মানুষের মনোলোভা হলেও বর্তমানে এর কদর কমতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি যদি রাইড শেয়ারিং রাখতে হয় তাহলে এর সঠিক নির্দেশনা রাখতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
রাইড শেয়ার প্রথম দিকে মানুষ বেশ সুবিধা মনে করছিল। কিন্তু এখন সেটার ইমেজ কমতে শুরু করেছে। এর কারণ সেটার ব্যবহারের জন্য। সুতরাং এটা রাখতে হলে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ঢাকা ক্যান্টমেন্ট, ঢাকা
রাইড শেয়ারিং-এর সুবিধা এনেছিল আমাদের দেশে যানজট ও গণপরিবহন থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়ার জন্য। প্রথম দিনে এর জৌলুসতা বেড়েছিল বটে। কিন্তু দিন দিন বর্তমানে নানা কারণে এর সুনাম নষ্ট হয়ে চলেছে।
মাসুদ আলম
উর্দ্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা
আমাদের এ দেশটা খুবই অদ্ভুত। এদেশে সবই সম্ভব। কত আন্দোলন হলো এই যানবাহন নিয়ে তবু বেপরোয়া মনোভাব কমলো না।
ডা. জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
রাইড শেয়ারের কারণে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে মানুষকে প্রতারিত করছে। খুবই ক্ষতি হচ্ছে, প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এদের বিরুদ্ধে সবারই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
হাবিবুর রহমান
ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ
প্রায় দেড় কোটি মানুষের ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় যাত্রী ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে না চললে সমস্যা ও আরজতা কমবে না।
খন্দকার মাসুদ -উজ-জামান
চানখারপুল, ঢাকা
আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসর্ম্পূূণ একমত। রাইড শেয়ারিং-এর চালকেরা তাঁদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচার-আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আড়াল করার জন্য ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করছে। যানজটপূর্ণ নগরীতে দ্রুত যাতায়াতের স্বার্থে মানুষ রাইড শেয়ারিং-এর প্রতি আকৃষ্ট। তবে চালকদের যাচাই বাছাই করে নিয়ম-শৃঙ্খলার আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন।
মো. ইসলাম
পুরানা পল্টন, ঢাকা
রাইড শেয়ারিংয়ের বর্তমানে চালকরা বেপরোয়া। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচার আচরণও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মোহাম্মদ সিকাদার আলী
শান্তিনগর, ঢাকা
রাইড শেয়ার ইদানীং আমাদের দেশে চালু হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অনেক আগে থেকেই এটি চালু রয়েছে। বিশেষ করে আমি ১৯৯২ সালে কম্বোডিয়ায় গিয়ে দেখেছি সেখানে গণপরিবহনের খুব অভাব। সেজন্য সেখানে ভাড়া চালিত মোটারসাইকেলের বেশি চলে। এই মোটরসাইকেল চালকদের চেনার জন্য এক ধরনের ক্যাপ ব্যবহার করে। সেখানে মহিলারাও মোটরসাইকেল চালান, কিন্তু তারা শাড়ি পরিধান করেন না। আমাদের দেশে রাইড শেয়ার চালু হওয়ার পরে তারা মোটরসাইকেলে শাড়ি পরে কাত হয়ে বসেন। এজন্য চালক যদি হঠাত্ করে ব্রেক করেন তাহলে শাড়ি পরা যাত্রীর রাস্তায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
মিরপুর, ঢাকা
একটি দুর্ঘটনা ঘটলে, সবাই কিছু দিনের জন্য একটু নড়ে চড়ে বসেন। আবার কয়েকদিন পর আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ধরনের বিষয়গুলো কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। যাদের সহযোগিতা সড়কগুলো নিরাপদ বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে, তাদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যায় না। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুঃখজনক। ইদানীং নতুন সংযোজন হচ্ছে দুর্ঘটনা। রাইড শেয়ারিংয়ের চালকের বেপরোয়ার বিষয়টি সে ক্ষেত্রে চালকদের দক্ষতা অর্জন ও তাদের কাগজপত্রাদি বিষয়টির প্রতি নজরদারিতে আনতে হবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
‘রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চালকরা বেপরোয়া’ উক্তিটির সঙ্গে সত্যি একমত। একমত এই কারণে যে, প্রতিনিয়ত নগরীর বিভিন্ন স্পষ্টে তাদের অবস্থান ও চলাচলে অনিয়ম দৃশ্যমান। এমনকি তাদের আচার-আচরণও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বটে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিষয়টি এখনই শুদ্ধ হওয়া দরকার ও আইনগতভাবে মনিটরিং প্রয়োজন।
চয়ন
কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইদানীং, একথা সত্য। রাইড শেয়ারিং সংক্রান্ত অনিয়ম রোধে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট-এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সালমা আফরোজ
ফার্মগেট, ঢাকা
রিকশা, টেম্পো, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত যানবাহন কোনো কিছুই যেন আজ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না। এখন ঘর থেকে বের হতে হয় জীবনকে হাতে নিয়ে। আতঙ্ক থেকেই যায়, বাহনরূপী যানবাহনগুলো এই মনে হয় জীবন নিভিয়ে দেবে। ইদানীং রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের চলন-ধরন সত্যি আতঙ্কজনক বটে। অনেকের আবার সঠিক কাগজপত্রাদিও নেই। সুতরাং বিষয়গুলো নিরূপণ হওয়া প্রয়োজন।
এস কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে গত ২০-২৫ বছর থেকে ঘটে যাওয়া চিত্র দেখে আসছি আমরা। দিন দিন এর প্রবণতা বেড়েই চলেছে। গত বছর ২০১৮ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের ২ শিক্ষার্থী দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত হওয়ার ঘটনায়-এর প্রতিক্রিয়ায় দেশ কাঁপানোর আগে আমাদের দেশে লক্ষ্য করা যায়নি। ছাত্রদের এই বিক্ষোভে ও প্রতিবাদে সরকার ও শ্রমিক পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরবর্তীকালে ক্রমে থেকে গেছে। সম্প্রতি রাইড শেয়ারিংয়ের চালকেরা বেপরোয়া সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এখন রাইড শেয়ারিংয়ে চলছে প্রচণ্ড অনিয়ম। সুতরাং লাইসেন্সবিহীন অনিয়মও তাদের এসব ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখনই প্রয়োজন।
হোসনে আরা করিম নীলা
নারীর কথা, হাজারীবাগ, ঢাকা
সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও অনিয়ম, অদক্ষ অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে। তাই আমরা মনে করি, রাজধানীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গীতালী
ধানমন্ডি, ঢাকা
রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা বেপরোয়া-এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। ইদানীং তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচার আচরণও শোভন নয়। অনেকেই অদক্ষ। অনেকেরই নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, নেই কোনো সনদও। রাস্তায় এরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাসের মতো পাল্লা দিয়ে চলাচল করে। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা নগরীতে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালোভাবে মনিটরিং নিয়মিতভাবে রাখতে হবে।
মো. রবিউল হোসেন রবি
পুরানা পল্টন, ঢাকা
