সাগরে জলদস্যুরা বেপরোয়া

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
বঙ্গোপসাগরে নিয়ন্ত্রণ এখন জলদস্যুদের হাতে। কক্সবাজার শহরের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে রবিবার একদিনেই ১৩টি মাছধরা ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। জলদস্যুরা ২০৩ জন জেলেসহ ১২টি ট্রলার অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ ১৩ জেলেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলেদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কক্সবাজার ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, চলতি মাসে কক্সবাজারের আশেপাশে কমপক্ষে ৫৩টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতি ও অপহরণের শিকার হয়েছে। গত রবিবার একদিনেই কক্সবাজার শহরের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে ১৩টি মাছধরা ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। ট্রলার মালিক সূত্র জানায়, জলদস্যুরা ডাকাতির পর ২০৩ জন জেলেসহ ১২টি ট্রলার অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এরমধ্যে গতকাল সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ ১২ জেলেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং ১ জনকে মহেশখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ট্রলারসমূহের কমপক্ষে ১৯০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। তবে কয়েকজন জেলে আহত অবস্থায় সাগরে ভাসছে বলে খবর এসেছে। জলদস্যুরা মালামাল ও যন্ত্রাংশ লুট করে এবং ভাংচুর চালিয়ে কয়েকটি ট্রলার সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে। কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, সাগরে উপর্যুপরি ট্রলার ডাকাতি হলেও কোস্টগার্ড কিংবা অন্য কোন সংস্থার কোন সহযোগিতা জেলেরা পাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নির্লিপ্ততার সুযোগে জলদস্যুরা সাগরে রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। ট্রলার মালিক সমিতি সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার অন্তর্ভুক্ত বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি জলদস্যু বাহিনী ‘রাজত্ব’ করছে। এসব বাহিনীর সদস্য ২ শতাধিক। শীর্ষ জলদস্যু বাহিনীর মধ্যে রয়েছে: মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকার নাগু মেম্বারবাহিনী, একই এলাকার মোকারম জাম্বু বাহিনী, বতইল্লা বাহিনী, আঞ্জু বাহিনী, মোবারক বাহিনী, মোনাফ বাহিনী, শফিক বাহিনী, কক্সবাজার শহরের উত্তর নূনিয়াচড়ার ফারুক বাহিনী, শহরের চরপাড়া এলাকার সিরাজ বাহিনী, মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার সামশুমাঝি বাহিনী, মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকার আব্দু সবুর বাহিনী ও কাউছার বাহিনী, কুতুবদিয়া রমিজ বাহিনী, বাঁশখালীর রমিজ বাহিনী, চট্টগ্রাম কর্ণফুলী এলাকার আহমদ নবী বাহিনী এবং পেকুয়ার রাজাখালী ভিত্তিক আরো কয়েকটি বাহিনী। এসব বাহিনীর হাতে কক্সবাজার উপকূলের লক্ষাধিক মত্স্যজীবী জিম্মি হয়ে পড়েছে।