চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর এলাকায় লেটুস পাতা চাষ করে চাষি আবুল কালাম অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। উপজেলাতে এই প্রথম তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে এর চাষ শুরু করেন। স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রয়োজন মিটিয়ে তা এখন নগরীর আড়তদাররাও কিনছেন বলে জানা গেছে। অনেক বছর ধরে তিনি কৃষিকাজ করলেও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনপ্রকার পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাননি বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পাশে লিজকৃত ৩২০ শতক জায়গায় চাষি আবুল কালাম বাল্যকাল থেকে বিভিন্ন প্রকার মৌসুমী শাক-সবজি চাষ করছেন। এই শীত মৌসুমে এ স্থানে তিনি বিভিন্ন প্রকার শাক, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো চাষ করেছেন। এর সাথে তিনি ১৬ শতক জমিতে লেটুস পাতার (স্থানীয়ভাবে কসমস ও খাছ) চাষ করেছেন। ওমান থেকে তিনি এক হাজার দুইশ টাকার লেটুসের বীজ সংগ্রহ করেছেন এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে। দুই মাস আগে তিনি এর জন্য জমি চাষ দিয়েছেন। প্রায় দেড় মাস পর তিনি এখন লেটুস ও খাছ পাতা বিক্রি করছেন । চাষি আবুল কালাম জানান, হাটহাজারী বাজারে প্রথম পর্যায়ে তিনি দুইদিনে প্রায় ৫০০ পিস খাছ পাতা বিক্রি করেছেন। ২/৩টি খাছ পাতার ওজন প্রায় ১ কেজি। কিন্তু তিনি প্রতি পিস ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। আর লেটুস পাতা ৪/৫টি এক কেজি ওজনের হয়। আর তিনি প্রতি পিস বিক্রি করছেন ১৫ টাকা করে। তার ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি অন্তত ৩ হাজার খাছ পাতা ও ৬ হাজার লেটুস পাতা চাষ করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব চাষ করতে শ্রমিকের মজুরী, জমি চাষ, সার, কীটনাশক ও নানা আনুষঙ্গিক খরচ অন্তত ২০ হাজার টাকা হবে বলে তিনি জানান। চাষি আবুল কালাম বলেন, স্থানীয়ভাবে ও নগরীতে এই পাতার চাহিদা যথেষ্ট থাকায় আমি আরো বেশি পরিমাণে চাষ করবো।
এদিকে হাটহাজারী বাজার থেকে তার ক্ষেত বেশি দূরে না হওয়ায় প্রতিদিন উত্সুক মানুষ তার লেটুস পাতার ক্ষেত দেখতে ভিড় করছে। আমিরাত প্রবাসী আলাউদ্দীন নামে এক যুবক জানান, দেশের বাইরে তিনি প্রতি কেজি অন্তত দুইশ’ টাকা করে লেটুস পাতা কিনেছিলেন। সেই হিসাবে এর দাম এখানে সহনীয়। তাছাড়া এর চাষ ব্যাপক আকারে করা হলে তা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতে পারে। এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, লেটুস বা খাছ পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি রয়েছে। তাই এটি বেশ উপকারী সুষম খাদ্য।
