চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বসেছি। সঙ্গে প্রিয় একজন। আজকের চাটা জটিল হয়েছে! যেমন আমি চাই। চুমুক দিতে দিতে অনেক কথা মনে পড়ে গেল! অনেক পুরোনো ইতিহাস। অনেক ভালোলাগার লম্বা গল্প ! ক্যাম্পাসে প্রতিদিন চা হাতে হারিয়ে যাই অজানায়। কিংবা আমার সোনালী অতীতে । প্রিয় অতীত। সোনা রঙ মাখানো অতীত। তোমাকে চাই না। তবুও প্রতিনিয়ত কেন তুমি চলে আসো? চায়ের কাপে জমজমাট আড্ডা নিয়েই এবারের আয়োজন।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী সানজিদা শান্তা। চা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবাকে সকাল-বিকেল চা দিতে গেলে অনেক সময়ই প্লেটে ঢেলে কিছুটা আমাকে বা ছোট ভাইকে দিতেন। বিশেষ করে শীতের দিনে। মামাবাড়ি বেড়াতে গেলেও শীতের সকাল-সন্ধ্যায় মুড়ি-নাড়ুর সাথে গরম গরম চা পাওয়া যেত। চায়ের আগে আর পরে গালগপ্পের দীর্ঘ আড্ডা জমতো চুলোর পাড়ে। ক্যাম্পাসে এসেও চায়ের আড্ডা থামেনি।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার ছাত্র সাকিরুল হক তরু বলেন, ‘ক্লাস এইট নাগাদ আমি বেশ ভালো চাখোর ছিলাম । তখন চা হতো ঝুরোপাতা জ্বাল দিয়ে, পাউডার মিল্ক গুলিয়ে। ততদিনে চা বানাতেও আমি মোটামুটি এক্সপার্ট। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে চা বানানো আমার নিত্যদিনের রুটিন। এখনও ক্লাসে যাওয়ার আগে নিজের হাতে চা করে খেয়ে যাই।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আকলিমা জান্নাত বলেন, ‘চায়ের পিছনে মাসে বেশ ভালো একটা অংকের টাকা খরচ হয়। ক্যাম্পাসে একা চা খাওয়া হয় খুব কম। কেউ না কেউ জুটে যায় গল্পের ছলে। এই সময়টাতে অনিয়মই যেন জীবনের নিয়ম। ভীষণ রাত জাগি অকারণে। গান শুনে, বই পড়ে বা আড্ডামেরে কখনও রাত প্রায় ভোর করে দেই। চা এসব রাতের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সোহেলী আক্তার মুক্তা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশে কারা ভালো চা বানায় তা আমার জানা আছে। জানা হয়ে গেছে ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই। প্রিয় বন্ধুদের সাথে এখানে- ওখানে চা খেতে যাই প্রায়শই। সবাই বলে মেয়ের বিয়ে সিলেটী কোন চা বাগানের মালিক বা ম্যানেজারের সাথেই দিতে হবে। অন্যথায় চায়ের খরচ সামলে শাড়ি-গয়না কিনে দেবার টাকা আর থাকবে বেচারা জামাইয়ের!’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু বকর বলেন, ‘চা ছাড়া কবেইবা জমেছে আড্ডা ! ক্যাম্পাসে এসেও আমারও আর চা ছেড়ে দেয়া হয়নি। জীবনের সব সাধ বাদ দিয়েই যদি বেঁচে থাকতে হয় তবে বেঁচে থাকার আনন্দইবা আর কি রইল! চা-ই তো আমার সামান্য বিলাসিতা। চলছে চলুক না। যতদিন চলে!’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহফুজ ও রত্না বলেন, ‘সকালে ঘুম ভাঙার পর এক কাপ চা না হলে যেন আমাদের দিনটাই শুরু হয় না। ক্লাসের ফাঁকে ঝিম ধরা মাথাটা ঠিকঠাক করতেও চায়ের বিকল্প নেই। আর সন্ধ্যায় বন্ধুদের আড্ডাটাই তো জমে ধোঁয়া ওঠা চা-এ। চা যেন আমাদের সারাদিনের সঙ্গী। আর চায়ের কাপে এক চুমুকে ভুলে যাই সারাদিনের ক্লান্তি।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরিন বলেন, ‘আমি যখন মেসে উঠলাম তখন চা খাওয়ার সরঞ্জাম ছিল না সেখানে। আস্তে আস্তে রুমের সবাইকে চায়ের অভ্যেস করিয়েছি। এখন ওদেরও চা না হলে দিন চলে না। আমার রুমের অনেকেই এখন চা বানাতে পারে। ক্লাসের ফাঁকে পরম বিলাসিতায় এক কাপ বানানো চায়ে চুমুক দিতে কার সাধ না জাগে!’
