শহিদ মোস্তফা কামাল আমাদের অকুতোভয় বীরশ্রেষ্ঠ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৭
বাংলা প্রথমপত্র মোস্তাফিজুর রহমান লিটন.সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ পিলখানা, ঢাকা এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ দু’জন বীরশ্রেষ্ঠঅধ্যায় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো। এই রচনাটিতে ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং তার মহান ত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়েছে। শত্রুর গোলার আঘাতে নিজে মৃত্যুবরণ করে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন তিনি। শহিদ মোস্তফা কামাল আমাদের অকুতোভয় বীরশ্রেষ্ঠ। ক) ইপিআর কী? খ) বাংলাদেশে কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়? ব্যাখ্যা করো। গ) বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সাথে দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ’ সংকলনে কার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে? তুলে ধরো। ঘ) ‘তাদের জন্য আমাদের চক্ষুুু জুড়ে অশ্রু আর হূদয় জুড়ে স্ফীত অহংকার’ — উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ’ সংকলন অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। উত্তর:ক। ইপিআর হলো ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস। উত্তর : খ। পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন অন্যায়, অত্যাচার আর আচরণের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানি তথা আমাদেরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পদদলিত করতে থাকে। তাদের অন্যায়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে; লুট হয়ে যেতে থাকে এ দেশের সব প্রাপ্য ও ন্যায্য অধিকার। তাদের নির্মম নিপীড়ন, বৈষম্য, দস্যুতা, সম্পদ পাচারের সীমাহীন দৌরাত্ম্য থেকে চিরমুক্তি লাভের জন্য বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। উত্তর:গ। উদ্দীপকের শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সাথে ‘দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ’ সংকলনের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রবের সাদৃশ্য রয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন; কিন্তু পিছু হটেননি। দেশমাতৃকার জন্য তিনি জীবন দান করে প্রমাণ করেছেন এ দেশের সন্তানেরা এ দেশকে কত ভালোবাসে! তাঁর এ সাহসী মনোভাবের পরিচয় আমরা মুন্সী আব্দুর রব চরিত্রটির মধ্যে খুঁজে পাই—তিনিও দেশের জন্য জীবন উত্সর্গ করেছেন। মুন্সী আব্দুর রব ১৯৭১ সালে স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বুড়িঘাট এলাকার চিংড়িখালের যুদ্ধে শহিদ হন। তিনি একটি মাত্র মেশিনগান নিয়ে যুদ্ধ করছিলেন অথচ পাকিস্তানিদের ভারী অস্ত্র ছিল; পাকিস্তানিদের সেই ভারী অস্ত্রের গোলা ধেয়ে আসছিল তাঁর দিকে। তবু তিনি পিছু হটলেন না। বাংলার মাটিকে তিনি রক্তে রঞ্জিত করলেন; মা-মাটিকে ভালোবেসে তিনি শহিদ হলেন। উদ্দীপকের মোস্তফা কামালও শত্রুর গোলার আঘাতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মারা যান। দেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্যই আমরা উভয় চরিত্রের মধ্যে প্রগাঢ় দেশপ্রেম ও নিবিড় শ্রদ্ধাবোধের সাদৃশ্য খুঁজে পাই। উত্তর: ঘ। ‘দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ’ নিবন্ধে ও উত্তীপকের শহিদ বীরশ্রেষ্ঠদের মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে—যাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ বাংলার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। আলোচ্য দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রব ও রুহুল আমিনের আত্মত্যাগ একটি দেশকে মুক্ত হতে অনেক সাহায্য করে, যা উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মধ্যেও আমরা খুঁজে পাই। ‘দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ’ নিবন্ধে মুন্সী আবদুর রব ও রুহুল আমিন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শত্রুদের ভয়ে পিছপা হননি। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তাঁরা সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। শহিদ হয়েছেন দেশের জন্য; উদ্দীপকের মোস্তফা কামালও দেশের জন্য সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং শহিদ হয়েছেন। উভয়ক্ষেত্রেই তাদের প্রতি আমাদের হূদয়জুড়ে অহংকার সৃষ্টি করে। নিজের জীবনের চেয়েও আলোচ্য তিন সেনানী দেশের প্রতি মমতা ও মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। ভয়হীন ও আত্মত্যাগী এই পুরুষদের গভীর চেতনায় দেশের স্বাধীনতার বীজ সুপ্ত ছিল। দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই অকুতোভয় এই সৈনিকরা নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতা আনতে দৃঢ় সংকল্পে আবদ্ধ ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই সমস্ত বীর সেনানীর জন্যই আমরা চূড়ান্ত বিজয় লাভ করতে সক্ষম হয়েছি।