অসি অপেক্ষা মসী অধিকতর শক্তিমান

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৮
অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মানুষকে বিধাতা জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে সৃষ্টি করে এই সুন্দর পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। শারীরিক শক্তি বল পয়োগে এই পৃথিবীকে জয় করার জন্য স্রষ্টা মানুষকে জ্ঞান-বুদ্ধি দেননি, বরং সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে পৃথিবীতে জয় করার জন্য জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন। অসি অর্থাত্ তরবারি যার ক্ষমতা বিশাল। যে মারণাস্ত্রের সাহায্যে শত্রু দমন হয়, মুহূর্তে লাখ লাখ প্রাণ বিনষ্ট হয়, এমনকি গোটা দেশও সমূলে ধ্বংস হয়। আপাতদৃষ্টিতে অসি অপেক্ষা মসীর ক্ষমতা নগণ্য মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে তা সত্য নয়। কারণ অসির ক্ষমতা সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী। বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় চেঙ্গিস খান, নাদির সাহ, হিটলার প্রমূখ তাদের মারণাস্ত্রের সাহায্যে রক্তের বন্যা বইয়ে দিগ্বিজয়ী বীর আখ্যায়িত হলেও ইতিহাসে অক্ষয় আসন লাভ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ক্ষনিকের জন্যে তারা পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করলেও তাদের কার্যক্রম নৃশংস ও কলঙ্কিত হওয়ায় মৃত্যুর পর তারা নিন্দিত হয়েছেন এবং চিরতরে হারিয়ে গেছেন বিস্মৃতির অতল অন্ধকারে। পক্ষান্তরে মসী বা লেখনীরুপে অস্ত্রের মাধ্যমে অনেক মনীষী তাঁদের জ্ঞানগর্ভ দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস, চিকিত্সাশাস্ত্র ও রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে বিশ্ব-মানবতার কল্যাণে তাঁদের চিন্ত্মাধারা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। আজ তাঁরা মানব-সভ্যতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁদের অবদানের কথা মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ কররে। কাজেই অসি অপেক্ষা মসী অধিকতর শক্তিমান। আর এজন্যেই বলা হয়, -Pen is mightier than the sword. পার্থিব জীবনে যা কিছু শক্তি বা বল দিয়ে জয় করা যায় না তা জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে খুব সহজেই জয় করা যায়।