মুয়াম্মার শাহরিয়ার, দশম শ্রেণি
পঞ্চগড় বিষ্ণুপ্রসাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ বিদ্যালয়ের আমি ১০ম শ্রেণির ছাত্র। সংক্ষিপ্ত আকারে প্রতিষ্ঠানটি বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচয় বহন করছে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় ১৯৮১ সালে জাতীয়করণ হয়। তত্কালীন জমিদার বিষ্ণু প্রসাদের দেয়া সম্পত্তির উপর গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ তাঁরই নামে করা হয়েছে। ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সু-সজ্জিত পরিবেশ সত্যই আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। একাডেমীক, বিজ্ঞান, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক মিলনায়তনসহ একটি মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে খেলার মাঠ। শহীদ মিনার ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার গ্যারেজ। বিদ্যালয়ের চতুরপার্শ্বে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়টির এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল উত্তরাঞ্চলের গৌরব বহন করে আসছে। বর্তমানে দু’শিফট-এ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০০ জন।
লেখাপড়ার পাশাপাশি সহপাঠ কার্যক্রমে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জেলা, বিভাগ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সাফল্য বয়ে আনছে। বিগত ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। ২০১২ সালে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৮জন শিক্ষার্থী পঞ্চগড় বিদ্রোহী শিশু কিশোর ডিবেট এন্ড স্কুল থিয়েটারের সিলেকশনে ভারতের বারনাসিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নাট্য উত্সবে অংশগ্রহণ করে শুধু বিপি স্কুল কিংবা উত্তর অঞ্চলকে নয়, গোটা বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার গৌরব অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানে রয়েছে স্কাউট এবং রেডক্রিসেন্ট দল। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্য যেমন রয়েছে পাঠাগার, তেমনি প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীন অনুষ্ঠানাদি পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি মিনি অডিটোরিয়াম।
লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ কাজে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা সর্বদায় সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। অভিভাবকরা সার্বক্ষণিক শিক্ষক মহোদয়দের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়টির সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী , অভিভাবক, শিক্ষক পরিচালনা পরিষদ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করতে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষাশ্রম বিনিময় করছেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদনসহ সকল প্রকার পরিবেশ প্রশংসনীয় এবং শিক্ষাবান্ধব। মনোমুগ্ধকর এই প্রতিষ্ঠানটি আমার বড়ই আপন।
