প্রয়াত কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের হূদয়ের খুব কাছের দুই ক্লাব বার্সেলোনা আর আয়াক্স আমস্টারডাম। উভয়দলই যদি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলে তবে ওপার থেকে সবচেয়ে খুশি তো হবেন এই ডাচই! তার প্রথম পর্বের কাজটা সেরে রাখলো দল দুটি।
লিওনেল মেসির নৈপুণ্যে বার্সেলোনা এ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। অন্যদিকে টটেনহ্যামকে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে এসেছে আয়াক্স।
বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে গত বুধবার রাতে মৌসুমের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ লিভারপুলের বিপক্ষে শুরুর একাদশে একগাদা চমক রেখেছিলেন । আক্রমণভাগে ওসমান দেম্বেলের জায়গায় ফেলিপে কোটিনহো, মাঝমাঠে আর্তুরো ভিদাল আর রক্ষণে ম্যাচ শুরু করেছিলেন সার্জি রবার্তো। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিচারে যা ছিল বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত। তবে ম্যাচে যথারীতি নিজেদের সহজাত কৌশলেই খেলছিল লিভারপুল।
লুই সুয়ারেজ ২৭ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল করলে এগিয়ে যায় বার্সা। এরপর ম্যাচে ফেরার সুযোগ প্রায়ই তৈরি করেছে সফরকারী লিভারপুল। তবে মহামূল্য সেই সমতাসূচক ‘অ্যাওয়ে গোল’ আর অল রেডদের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন।
প্রথমার্ধে কিছুটা নিজের ছায়া হয়ে থাকা মেসি স্বরূপে ফিরলেন দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে। আর তাতেই লিভারপুলের রক্ষণ আর মনোবল ভাঙলো তাসের ঘরের মতো। ৭৫ মিনিটে সুয়ারেজের একটি শট গোলপোস্টে প্রতিহত হলে ফিরতি শটে তা জালে পাঠান বার্সা অধিনায়ক।
এর মিনিট সাতেক পর ইংলিশ ক্লাবটির গোলমুখের প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে মেসি ফ্রি কিকে অবিশ্বাস্য এক গোল করলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিভারপুলের বিপক্ষে ন্যু ক্যাম্পে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের। একেবারে শেষদিকে আর্জেন্টাইন তারকার বাড়ানো বলে উসমান দেম্বেলে সুযোগ নষ্ট না করলে আরো একটি গোল পেতে পারতো বার্সা। তার আফসোস কিছুটা থাকলেও তিন গোলের অগ্রগামিতা নিয়ে খুশি মেসি।
অধিনায়ক মেসি ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চতুর্থ গোলটি হতে পারতো কিন্তু এটাও দারুণ এক ফলাফল। খেলাটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি কারণ আমরা একটা ঐতিহাসিক মাঠে যাচ্ছি এবং এটা আরো ভালো কিছু দাবি করবে, কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট।’
এদিকে আয়াক্স দ্বিতীয় পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাসের মাঠ থেকে দুর্দান্ত দুটি জয় তুলে সেমিফাইনালে এসেছিল। গত মঙ্গলবার রাতে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ১৫তম মিনিটে ড্যানি ফন ডি বিকের একমাত্র গোলে পাওয়া অগ্রগামিতা ধরে রেখে চলতি আসরে টানা তৃতীয় ‘অ্যাওয়ে ম্যাচে’ জয় পায় আয়াক্স।
নতুন স্টেডিয়ামে আসার পর নিজেদের মাঠে কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর দলের এটি প্রথম হার।
প্রতিপক্ষের মাঠে পাওয়া এ জয় আয়াক্স কোচ এরিক টেন হ্যাগকে নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগের জন্য আরো উজ্জীবিত করছে। তিনি বলেন, ‘অ্যারেনায় পরের সপ্তাহে কঠিন এক ম্যাচই হবে। কিন্তু নিজেদের সমর্থকদের সামনে থাকাটা ফাইনালে ওঠার জন্য মানসিকভাবে এগিয়ে দেবে আমাদেরকে।’
