সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশেও চালু হয়েছে ই-কমার্স। আর ই-কমার্সের সেবা প্রদান করতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ই-কমার্স সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়লেও আমাদের দেশে ই-কমার্স সবে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই যে কয়েকটি ই-কমার্স সার্ভিস চালু হয়েছে, সেগুলো যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সমর্থ হয়েছে সকলের মাঝে। তবে ই-কমার্স সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মানুষের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ই-কমার্স নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতেই আগামী ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি আমাদের দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ই-বাণিজ্য মেলা ২০১৩’। শাহবাগে অবস্থিত সুফিয়া কামাল গণ গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ই-বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মেলা নিয়ে আমাদের দেশের নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হলেও ই-কমার্স নিয়ে এই ধরনের প্রদর্শনী এই প্রথম।
‘ই-বাণিজ্য মেলা ২০১৩’ নিয়ে কথা হয় মেলার আহ্বায়ক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমালের সাথে। তিনি জানালেন মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং এর বিভিন্ন তথ্য। তমাল জানালেন, ‘কমপিউটার জগত্ কেবল আইটি ম্যাগাজিন হিসেবেই নিজেদের কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ রাখেনি কোনো সময়। শুরু থেকেই নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে দেশের মানুষকে পরিচিত করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে এই আইটি ম্যাগাজিন। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে ই-কমার্স যাত্রা শুরু করলেও সর্বস্তরের মানুষের কাছে এখনও পৌঁছে যেতে পারেনি ই-কমার্সের সেবা। তবে নতুন প্রযুক্তি ্আত্মীকরণ করতে আমাদের দেশের মানুষ বরাবরই আগ্রহী। আর তাই তাদের কাছে ই-কমার্সের সুবিধাগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যেই আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সেবা চালু করেছে কিন্তু এসব সেবার অনেকগুলোর খবরই সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছেনি। আমরা মনে করি, ই-কমার্সকে সবার সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রয়োজন এমন একটি আয়োজন, যেখানে ই-কমার্সের সেবার সব ধরনের তথ্য সবাই জানতে পারবে। এমন একটি আয়োজন আমরা করতে চেয়েছি, যেখানে এসে সকলে ই-কমার্স সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবে। এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকেই মূলত আমরা এই ই-বাণিজ্য মেলা ২০১৩-এর আয়োজন করেছি।’
‘ই-বাণিজ্য মেলা ২০১৩’-এর স্লোগান রাখা হয়েছে ‘ঘরে বসে কেনাকাটার উত্সব’। সাধারণভাবে দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের দেশে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ই-কমার্স অনেকদিন থেকেই চালু থাকলেও ই-কমার্স নিয়ে বড় ধরনের কোনো প্রদর্শনী বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) একটি ই-কমার্স সপ্তাহ আয়োজন করলেও সেটি মূলতই ছিল প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট মানুষদের অংশগ্রহণে সেমিনারকেন্দ্রিক একটি আয়োজন। তবে সাধারণ মানুষকে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ই-কমার্স নিয়ে কোনো মেলা আয়োজিত হয়নি বলেই এই ধরনের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই মেলায় থাকছে সর্বমোট ৪০টি স্টল। এসব স্টলে ৩০ থেকে ৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে যাচ্ছে। তমাল বলেন, ‘আমরা একটি প্রাথমিক পর্যায়ের জরিপে দেখেছি, বাংলাদেশে প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে ই-কমার্সের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। আমরা এসব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি আমাদের আয়োজনে। সব প্রতিষ্ঠানকে হয়ত আমরা অন্তর্ভুক্ত করতে পারব না, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে সর্বমোট ৪০টির মতো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে যাচ্ছে এই আয়োজনে।’
তমাল জানান, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে মূল পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এ ছাড়া আইসিটি মন্ত্রণালয়ও এই মেলার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবং অনলাইন বিকিকিনির প্ল্যাটফর্ম সেলবাজার। গোল্ড পার্টনার হিসেবে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে এসএসএল। এ ছাড়াও এই আয়োজনের পার্টনার হিসেবে আরও রয়েছে এমসিসি, ডেভসটিম, ঢাকা এফএম, সময় টিভি, বিডিওএসএন, আজকের ডিল, এখনি ডটকম, সামহোয়্যার ইন ব্লগ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা অনলাইন, কমজগত টেকনোলজিস, অর্পণ কমিউনিকেশন, ওয়েবটিভিনেক্সট এবং সিজে সফট।
ই-কমার্স নিয়ে এই আয়োজনের মাধ্যমে কেবল সাধারণ মানুষই নয়, সরকারি পর্যায়ে নীতি নির্ধারণী মানুষদের কাছেও ই-কমার্সের সেবার কথা পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা। তমাল জানালেন, মেলার পাশাপাশি এখানে থাকবে বেশ কয়েকটি সেমিনার, যেখানে উপস্থিত থাকবেন সরকারি পর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা। এসব সেমিনারে আয়োজকদের পক্ষ থেকে থাকবে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা। এই প্রস্তাবনাগুলো নীতি নির্ধারকদের ই-কমার্স সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অনেকটাই প্রভাবিত করবে বলেই আশাবাদী তমাল।
এই মেলায় লোকজনের সমাগম কেমন আশা করছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তমাল বললেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে আমরা মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করেছি। তাদের মনে এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমরা আশা করছি, এসব প্রশ্ন নিয়ে তারা হাজির হবেন আমাদের মেলায়। ই-কমার্স নিয়ে যাদের কৌতুহল রয়েছে, তাদের সকলেই এই মেলায় আসবেন বলেই আমরা মনে করি। তাছাড়া বইমেলায় বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। তাদের বড় একটি অংশই এই মেলাতে আসবে বলেও আমরা মনে করি।’
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই ই-বাণিজ্য মেলা সফল হবে বলেই আশাবাদী আয়োজকরা।
