বিভাগীয় শহর সিলেটের প্রায় ৭০ ভাগ অধিবাসী আবাসন সমস্যায় ভুগলেও প্রবাসীদের জন্য হাজার কোটি টাকার আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির ‘ডিপিপি’ (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি কর্মকর্তারা মালয়েশিয়াও সফর করেন। প্রস্তাবটি এখন প্রি-একনেক-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুল আলম বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, সিলেটের প্রবাসীদের জন্য নগরীর বটেশ্বর এলাকায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খুব শিগগিরই এ আবাসন প্রকল্প তৈরি করা হবে। মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার মত একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন আবাসন এলাকা গড়ে তোলা হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তখন সিলেট হবে সত্যিকার অর্থে এক নতুন ভূস্বর্গ।’
এদিকে আবাসন সংকট নিয়ে ক্রমবর্ধমান সিলেট নগরীতে বসবাসরত সিংহভাগ মানুষের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। ছোট ব্যবসায়ী, ছোট আয়ের চাকরিজীবীদের এখন আর ভাড়া করা বাসায় দিন চলছে না। প্রতিমাসে বিরাট অংকের বাসা ভাড়াসহ সংসারের খরচ যোগাতে গিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির এ সব মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে যারপরনাই কষ্টে আছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট শহরতলীতে যদিও ব্যক্তি মালিকানায় বেশ কিছু আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। কিন্তু নগরীতে জমির দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় তা কিনতে পারছে না মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এদের উপযোগী মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়া সরকারের দায়িত্ব। কারণ এটা মানুষের মৌলিক অধিকার।’
সোনার চেয়েও দামি জমি!
সিলেট নগরীতে জমির দাম দিন দিন বাড়ছে বলে জানা গেছে। এখানকার জমি সোনার চেয়েও দামি—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই। জমির অগ্নিমূল্যের কারণে অনেকেই জমি কেনার আশা ত্যাগ করেছেন। জানা গেছে, শহরের প্রাণকেন্দ সমঝোতার মাধ্যমে দরদাম ঠিক হচ্ছে। জিন্দাবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক লায়েস উদ্দিন বলেন, এসব এলাকায় জমি বিকি-কিনি হয় না। আর হলেও প্রতি কাঠার দাম ৫০ লাখের কম হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একাধিক সূত্র জানায়, শহরে মধ্যবিত্তের পক্ষে জমি কেনা বড় দায়। শহরতলীর দিকেও যে একেবারে জমির দাম কম তাও নয়। অনেকেই মনে করেন সরকারি উদ্যোগে জমি কিনে আবাসিক প্লট বরাদ্দ দিলে তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতেন।
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে উপশহর এলাকার পাশে ৫০ একর জমি নিয়ে একটি আবাসিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। চার শত প্লট করার উপযোগী এ প্রকল্পটির অনুমোদন আসলেও কাজের কাজ আগায়নি দীর্ঘসূত্রতার কারণে। অবশ্য এর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, উপশহরেই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি ৯তলা ভবন তৈরি হচ্ছে। এতে ৮৮টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। এক হাজার বর্গফুটের একেকটি ফ্ল্যাটের মূল্য পড়বে ৫০ লাখ টাকা। ৫০ ভাগ সংরক্ষিত থাকবে প্রবাসীদের জন্য। গত বছরের জুলাই মাসে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ৩৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় নর্থইস্ট মেডিক্যালের কাছে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট গৃহায়ন কর্মকর্তারা জানান, এখানে আড়াইশ’ প্লট হবে। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন।
