সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাসের জন্য বাংলাদেশের মাটি কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। বাংলাদেশে অবস্থান করে অন্য কোন দেশেও আক্রমণ করতে দেয়া হবে না। সফররত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্দে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করলে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় ঢাকা ও দিল্লী সঠিক অবস্থানেই আছে। দুই দেশের মধ্যে বহিঃসমর্থন চুক্তি ও সংশোধিত ভিসা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে সহযোগিতা ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিক-দের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ অবহিত করেন।
দুই দেশের স্থলসীমা চুক্তিতে ভারতের অনুসমর্থনের প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ রয়েছে বলে সুশীল সিন্দেকে জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রেস সচিব জানান। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে দেড় বছর ধরে। আর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ঢাকা।
প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্যকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ আখ্যায়িত করে তা নির্মূলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সময়ে বাংলাদেশের ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত অবস্থা থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারত সরকার এবং দেশটির জনগণের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী গ্রন্থও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক করিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ সরণ।
