রাষ্ট্রপক্ষের আনা প্রতিটি অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। গতকাল মঙ্গলবার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আনা মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে কোনো এক দেলোয়ার শিকদারের করা অপরাধ আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ মিথ্যার পাহাড় রচনা করেছেন। সরকার ও তার রাষ্ট্রযন্ত্রের চিত্রিত হত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী, গণহত্যাকারী, ধর্ষক, অগ্নি সংযোগকারী, দেলোয়ার শিকদার বা দেইল্যা রাজাকার— আমি নই। আমি পবিত্র কোরআনের একজন তাফসীরক।
তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে গত ৪২ বছরের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে কোনো বিষয়েই কোনো মামলা ছিল না। সামান্য একটি জিডিও ছিল না। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আজ আমি ১৭টি মামলার আসামি। সেই জুন ২০১০ থেকে অদ্যাবধি কথিত মানবতা বিরোধী ২০টি অপরাধের অভিযোগসহ ১৭টি মামলা আমার বিরুদ্ধে দায়ের করে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে সরকার আমাকে তাদের এক রাজনৈতিক তামাশার পাত্রে পরিণত করেছে। ১৯৯৬-২০০১ সালে কিংবা ৭২ থেকে ৭৫ মেয়াদকালে ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ইসলাম বিদ্বেষী বর্তমান অবস্থান ছিল না বিধায় আমাকে তারা মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার কারণ খুঁজে পায়নি।’
সাঈদী আরো বলেন, ‘যে ২০টি মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ আপনাদের সম্মুখে আমি দণ্ডায়মান, সেগুলো সরকারের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই সাজানো। কোনো মুসলমানের পক্ষে এতো জঘন্য মিথ্যাচার আদৌ সম্ভব নয়। তদন্ত কর্মকর্তা এবং সহযোগীরা তাদের অভিযোগগুলো প্রমাণের জন্য কয়েকজন বিতর্কিত সরকারি সুবিধাভোগী দলীয় লোক ব্যতীত সাক্ষি প্রদানের জন্য কাউকেই হাজির করতে পারেননি। তাছাড়া, স্কাইপ ষড়যন্ত্র ধরা পড়ার পর এই বিচারের উপর দেশবাসীর মতো আমার আস্থাও শূন্যের কোটায়। পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ সুবিবেচনা ও বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে এই মামলা নিষ্পত্তি করবেন, এই বিষয়ে আমি আশাবাদি এবং আস্থাশীল হতে চাই।’
সাঈদীর বক্তব্যের শেষ দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তীব্র আপত্তি জানালে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সাঈদীর ছেলেদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
