ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পৃথক সময়ে অন্তত ১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন এক রিক্সাচালক। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রকে ক্যাম্পাস থেকে আটক করেছে পুলিশ।
ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে প্রবেশ চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দিন-রাত উত্তেজনা বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইটি মামলা করেছে পুলিশ। একটি মামলায় ১০০ থেকে ১৫০ জন এবং অপর মামলায় ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুই মামলাতেই ছাত্রদলের কেন্দ ীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল হাসান হিরুকে আসামি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস, শাহবাগ থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শাহবাগে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। একই সময় নীলক্ষেতে দুই দফায় সাতটি, সকাল ১০টায় পলাশী চত্বরে তিনটি এবং চানখারপুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। চানখারপুলে বিস্ফোরণে রবিউল নামে রিক্সাচালক আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে শাহবাগ থানা পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে পাঁচ ছাত্রকে আটক করেছে। এদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- আশরাফ, আল মামুন ও ফুয়াদ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন আটককৃত পাঁচজনের মধ্যে দুইজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবারের বিস্ফোরণে এক মামলায় ছাত্রদল নেতা রয়েল এবং অন্য মামলায় আসাদকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, ককটেল বিস্ফোরণের বেশকিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঐ ছাত্রদের আটক করেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আটক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ছাত্রদলের মিছিল :গতকাল ক্যাম্পাসে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে নীলক্ষেতে মিছিল করে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। সকাল সোয়া নয়টার দিকে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল হাসান হিরু ও সহ-সভাপতি সাদিউল কবির নীরবের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে আসলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঐ স্থান ত্যাগ করে।
নির্ঘুম পাহারায় ছাত্রলীগ :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় চার বছর ধরে প্রকাশ্যে কর্মসূচি ও সহাবস্থান নেই ছাত্রদলের। সোমবার সকালে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে বলে গত রবিবার রাতেই তথ্য ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। রবিবার রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে মহড়া দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। হলগুলোতে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের ক্যাম্পাসে প্রবেশ চেষ্টা ও ছাত্রলীগের মহড়ায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, ছাত্রদল প্রতিদিনই ‘বিশৃংখলা তৈরি করার’ চেষ্টা করবে বলে তথ্য পেয়েছি। বিশৃংখলা রোধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে।
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল হাসান হিরু বলেন:ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে ছাত্রদলের। কিন্তু প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নেতাদের বাধার কারণে আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশই করতে পারছি না। ককটেল বিস্ফোরণ বা বিশৃংখলার সাথে ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে আহবান জানান।
