ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থার অভাবে কর ফাঁকির প্রবণতা

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ২২:২১

দেশের বিদ্যমান করহার ন্যায়সঙ্গত নয় বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করেন, এসব কারণে কর ফাঁকি ও কর পরিহার হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগও আসছে না। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ন্যায়সঙ্গত করনীতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি করার দাবি তাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানের একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘অগ্রগতির পথে :স্থানীয় ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত কর ব্যবস্থা’ শীর্ষক ওই সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত কর নীতিমালার অনুপস্থিতি কর পরিহারের অন্যতম কারণ। দেশে উচ্চ করহারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের স্বার্থে এটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা উচিত। এছাড়া বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিশেষ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আনা উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি। আলোচনায় অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা কিছু ক্ষেত্রে করহারের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।

অবশ্য কর নিয়ে এখনো বৈষম্য নেই দাবি করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হই। আমাদের রপ্তানি পণ্য সেখানে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ কর পরিশোধ করে প্রবেশ করতে হয় অথচ ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে তা সাত থেকে আট শতাংশ। বাংলাদেশে ন্যায়সঙ্গত করনীতি রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আগামীতে দেশে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা তথ্য-প্রমাণ নিয়ে দেখেছি, পৃথিবীর অনেক দেশের চাইতে বাংলাদেশে করহার সহনীয়। এমনকি ভারতেও আমাদের চাইতে কিছু বেশি করহার রয়েছে। অবশ্য আগামীতে করহার বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যারা কর পরিহারের চেষ্টা করছে, তাদের সন্ধানে এনবিআর বাড়ি বাড়ি অভিযান শুরু করেছে।

এ সময় বক্তব্য দেন পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, আব্দুল মোনেম গ্রুপের পরিচালক মাইনউদ্দিন মোনেম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্য নওশাদ আলী, আল মামুন এম রাসেল এবং সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল প্রমুখ।