চোর যখন বিপাকে!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৯
চুরি করতে যেয়ে ধরা পড়া কিংবা এজন্য জনতার পিটুনি থেকে শুরু করে হাজতবাস পর্যন্ত নানা ঝক্কি পোহানো চোরেদের জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু তাই বলে গাড়ির মতো কোনো সামগ্রী চুরি করতে যেয়ে কেউ যদি গাড়িটিই চালাতে না পারেন কিংবা এ কারণে যদি শেষতক গাড়ি রেখে পালাতে হয় চোরদের তবে তা চমকের জন্ম দেয় বটে! আর সম্প্রতি এমনটিই ঘটেছে আমেরিকার অরল্যান্ডো অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালের সামনে। এদিন ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন বা ম্যানুয়াল গিয়ারের একটি গাড়ি চালু করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সেটি রেখেই পালিয়ে যায় গাড়ি চোরের দল। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন র্যানডলফ বিন নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় একটি হাসপাতালের সামনে রাখা তার গাড়িটির সামনে আসতেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে ২০০২ মডেলের হলুদ রঙের করভেট গাড়িটির চাবি ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু গাড়িটি চালু করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধে আসল বিপত্তি। বেশ কয়েকবারের প্রচেষ্টাতেও গাড়িটি চালু করতে না পেরে অগত্যা র্যানডলফের মোবাইল ফোন, চাবি আর মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘটনার বর্ণনা দিতে যেয়ে র্যানডলফ বলেন, ‘তারা যখন অনেক চেষ্টা করেও গাড়িটি চালু করতে পারছিল না তখন আমার মনে দুটি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। প্রথমত আমার মনে হচ্ছিল এখন কী স্কুলগুলোতে গাড়ি চালানোর মূল বিষয় আর শেখানো হয় না? দ্বিতীয়ত গাড়িটি নিতে না পারলে তারা (চোরেরা) কি আমাকে গুলি করতে পারে? মূলত এ ধরনের চিন্তা থেকেই আমি তাদেরকে পর পর চারবার ক্লাচ টেনে কীভাবে গাড়ি চালু করতে হবে তা বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এভাবে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও যখন তারা গাড়িটি চালাতে ব্যর্থ হয় তখন তারা পালিয়ে যায়।’ এ যাত্রা চোরেদের হাত থেকে গাড়ি এবং জীবন বাঁচানো র্যানডলফ ঘটনার এই বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি আপাতদৃষ্টিতে সুদর্শন ও ভদ্র বলে মনে হওয়া এই চোরেদের জন্য কিছু উপদেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে চোরেরা গাড়ির মতো তুচ্ছ একটি জিনিসের জন্য আমার জীবন কেড়ে নেয়নি। সেই সাথে এটাও বলি যে তোমরা (চোরেরা) কিন্তু তোমাদের জীবনটাকে পাল্টে ফেলতে পারো এবং আরও ভালো কোনো কাজের জন্যও নিজেদের শ্রম ও মেধা ব্যয় করতে পারো।’