হংকংয়ে ৫০ হাজার নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৮
মাঝখানে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ নানা কারণে নেমে এসেছিল প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে। তবে আবার জনশক্তি রপ্তানর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে। কিছুদিন আগেই মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবারে হংকংও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ থেকে লোক নেওয়ার। ধাপে ধাপে দুই লাখ লোক নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে তারা। প্রথম পর্যায়ে তারা ৫০ হাজার গৃহকর্মীর চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে তারা। সরকারি ও বেসরকারি—দুইভাবেই লোক পাঠানো হবে হংকংয়ে। সরকারিভাবে গৃহকর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে। এ জন্য বিস্তারিত তথ্যসহ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর কার্যক্রমটি চলবে ধাপে ধাপে। প্রথমেই সারা দেশ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের তথ্যসেবাকেন্দ্রে গিয়ে নাম নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ফরমের সব তথ্য অনলাইনে পূরণ করতে হবে। পরে নিবন্ধিত প্রার্থীদের লটারির মাধ্যমে মনোনীত করা হবে। লটারিতে যারা মনোনয়ন পাবেন, তাদের আবার বাছাই পরীক্ষা হবে প্রার্থীর কাছের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট জেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেখান থেকে যারা সনদপত্র লাভ করবেন, তারাই চূড়ান্তভাবে মনোনীত হবেন হংকংয়ে কাজ করার জন্য। সরকারীভাবে হংকংয়ে জনশক্তি রপ্তানির যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে রয়েছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য হংকংয়ে যেতে চাইলে প্রথমেই প্রার্থীকে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রার্থীর নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্মতারিখ, বৈবাহিক অবস্থা, বয়স, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পাসপোর্টের মেয়াদ ও ইস্যুর তারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও যাকে নমিনি করা হবে, তার সাধারণ তথ্য ও ফোন নম্বর দিয়ে এই নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণ করলে কোন তারিখে, কোন স্থানে, কোন সময়ে বাছাই পরীক্ষা হবে—এসব তথ্যসহ একটি নিশ্চিতকরণ পত্র দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বাছাই পরীক্ষায় যোগ দিতে হবে। বাছাই পরীক্ষার তথ্য হংকংয়ে যেতে আগ্রহী প্রার্থীরা হংকংয়ে যাওয়ার উপযোগী কি না সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বাছাই পরীক্ষায়। অর্থাত্ একজন প্রার্থী হংকংয়ের পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়টি দেখা হবে বাছাই পরীক্ষায়। আর এই পরীক্ষায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এই বাছাই পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে যারা উত্তীর্ণ হবে, তারাই কেবল প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হবে। প্রশিক্ষণ ও খরচের হিসাব হংকংয়ে যাওয়ার সরকারি প্রক্রিয়ায় যারা মনোনীত হবেন, তাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। এই প্রশিক্ষণের মূল বিষয় থাকবে হংকংয়ের ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে মনোনীত প্রার্থীদের পরিচিত করে তোলা। হংকংয়ের ভাষা যাতে প্রার্থীরা এই দুই মাসে রপ্ত করে নিতে পারে, সে চেষ্টা করা হবে এই প্রশিক্ষণে। আবার হংকংয়ে গিয়ে যাতে সেখানকার পরিবেশ এবং অধীবাসীদের সাথে প্রার্থীরা মানিয়ে নিতে পারেন সহজে, সে বিষয়টিও লক্ষ করা হবে প্রশিক্ষণে। যেহেতু গৃহ পরিচারিকা হিসেবেই যেতে হবে হংকংয়ে, তাই বাসাবাড়ির যাবতীয় কার্যক্রম ও বাচ্চা পরিচর্যার কাজ হাতে-কলমে শেখানো হবে এই প্রশিক্ষণে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রদান করা হবে সনদপত্র। সরকারি প্রক্রিয়ার বাইরে যারা বেসরকারি প্রক্রিয়ায় যেতে চান, তাদের খরচ হবে বেশি। সরকারিভাবে যেতে চাইলে প্রতিজন নারীর খরচ হবে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। তবে টাকার এই অংক দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। পুরো টাকাই হংকংয়ে গিয়ে কাজ করতে করতে যে বেতন পাওয়া যাবে, তা থেকে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণে কেটে নিতে হবে। শুধু পাসপোর্ট করতে হবে নিজের খরচে। যে যোগ্যতা লাগবে প্রার্থীদের সর্বনিম্ন দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে। শারীরিকভাবে সুস্থ-সবল হতে হবে। বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৩০ বছর। হংকংয়ের ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি পড়া, লেখা এবং বুঝার যোগ্যতা লাগবে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ পেলে এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে ভিসা তৈরি হয়ে যাবে। প্রথমে ভিসা হবে দুই বছরের। পরে কাজের যোগ্যতা অনুযায়ী এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। হংকংয়ে কোনো সমস্যা হলে তার তত্ত্বাবধান করবে বাংলাদেশ সরকার। হংকংয়ে যারা যাবেন, তাদের মাসিক সর্বনিম্ন বেতন হবে ৪১ হাজার টাকা। ওভারটাইম আর কাজের দক্ষতার ওপর বেতন বাড়বে।