আমাদের দেশে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ সব কোটার মধ্যে জেলা কোটা, নারী কোটা, উপজাতি কোটা, পোষ্য কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা উল্লেখ্য। আরো ভেতরে ভেতরে কত কী কোটা প্রচলিত।
কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে কৃষকদের সন্তানের জন্য কোন কোটা নেই। বিষয়টি খুবই পরিতাপের। কেন না কৃষিপ্রধান এ দেশ। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ লোক কৃষিনির্ভর। কৃষিই এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহের প্রাণস্পন্দন, অর্থনীতির মেরুদণ্ড। অথচ তাদের নিজেদের অবস্থাই শোচনীয়। যুগ যুগ ধরে কৃষককুল শাসিত, শোষিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত,অবহেলিত হয়ে আসছে। কেউ তাদের দিকে চোখ তুলেও তাকায়নি।
অথচ আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সর্বক্ষেত্রে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে তারা অন্ন জোগানের কঠিন সংগ্রামে নিবেদিত। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনেও তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনেও তারা সক্রিয় ছিল। আর ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের জানমাল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এ দেশকে হানাদার মুক্ত করতে। তারা নিজেরা যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীও হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন অপারেশনে স্পটে নৌকা দিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। অনেক সময় পাকিস্তান সৈন্যদের গতিবিধি অবস্থানের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ পাকিস্তানি ও মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে প্রাণ দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অপরাধে তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে অঙ্গার করা হয়েছে। স্ত্রী-কন্যারা হারিয়েছেন ইজ্জত। ইজ্জত হারানোর অপমান সইতে না পেরে অনেকেই আত্মবিসর্জন দিয়েছেন। এ সব বাস্তব চিত্র। স্বাধীনতার ৪১ বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু তারা কী পেল? বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা মনস্ক সরকার। তাই কৃষকদের জন্য কিছু করা এখনই তাদের মোক্ষম সময়।
এখন গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করায়। টানাপোড়েনের সংসারে সন্তানদের খরচ জোগাতে গিয়ে তারা গরু বেচে, জমি বেচে গহনা বেচে। যখন সন্তান পাস দেয়ার পরও চাকরি নামক সোনার হরিণটির নাগাল পেল না তখন কৃষক পরিবারটির সকল স্বপ্ন খান খান হয়ে যায়। বেকার সন্তান নিয়ে তাদের হয় আফসোসের সীমা-পরিসীমা থাকে না। তাই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষকদের কথা বিবেচনা করে তাদের সন্তানদের জন্য ৫-১০% কোটা চালু করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
দেশে এখন ভর্তি কোটাও চালু রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃষকদের সন্তানদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তি কোটা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের সহানুভূতি আশা করছি।
কোটা পদ্ধতিতে চাকরি পাওয়া ও ভর্তি হওয়া সহজ। তাই গ্রাম বাংলার কৃষকদের উপকার করতে হলে তাদের সন্তানদের করতে হবে, আর এই মহান বিজয়ের মাসে চাকরি ও ভর্তি ক্ষেত্রে কৃষক কোটা চালু করার জন্য সরকারের কাছে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।
মফিজ,
হরিপুর, মেঘনা, কুমিল্লা
