ঝালকাঠি হরত্চন্দ্র বালিকা্ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী লামিয়াকে (১০) অপহরণের ৬ দিন পরও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরব প্রবাসী ইসরাফিল হাওলাদারের কন্যা লামিয়া রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের ইন্দ্রপাশা গ্রামে দাদাবাড়ি বেড়াতে এসে অপহূত হয়।
মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ২৬ জানুয়ারি রাজাপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই ইউনিয়নের উত্তর সাউথপুর গ্রামের লামিয়ার ফুপাতো ভাই মামুন (১৯), তার বাবা আসলাম খাঁ, মা মারুফা বেগম ও বন্ধু মনিরকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামুনের বাবা ও মাকে গ্রেফতার করলেও লামিয়াকে উদ্ধার এবং মামুন ও তার বন্ধুকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার পর মামুনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগকারী অন্য দু’বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে এলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে লামিয়ার মা অভিযোগ করেন। কন্যা অপহরণের সংবাদ পেয়ে প্রবাসী বাবা ইসরাফিল হাওলাদার সৌদি আরব থেকে ২৮ জানুয়ারি সকালে ঝালকাঠি এসে পৌঁছেছেন। এরপর ২৯ জানুয়ারি ইসরাফিল স্ত্রীকে নিয়ে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মজিদ আলীর সাথে দেখা করেন। তিনি দ্রুত লামিয়াকে উদ্ধার, অপহরণকারী মামুনের গ্রেফতার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
ঘটনা সম্পর্কে লামিয়ার মা মাকসুদা বেগম জানান, অপহরণকারী মামুন দু’মাস আগে বিদেশে যাবার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সে ক্ষুব্ধ হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি ঝালকাঠি থেকে লামিয়াকে নিয়ে রাজাপুর শ্বশুরবাড়ি যাই। ঐদিন রাতে মামুন লামিয়াকে নিয়ে আমাকে খুঁজতে যাবার অজুহাতে বাইরে যায়। এরপর থেকে লামিয়াকে আর পাওয়া যায়নি। রাজাপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, লামিয়াকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
