বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এখন চরম হুমকিতে রয়েছে। তাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটন টাইমসে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ আহবান জানানো হয়। নিবন্ধে বলা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশে রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে। জনগণ নতুন সরকার গঠনে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে। জনগণ এ ব্যবস্থা বাতিলের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ জানালেও শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি মনে করছেন, এর মাধ্যমে আবারো নির্বাচিত হতে পারবেন।
নিবন্ধে তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর মিয়ানমার সফর করেছেন। দেশটি সামরিক শাসনের বলয় থেকে বেরিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। সেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র যদি একটি পরিবারের হস্তগত হয় তাহলে দেশটি এ অঞ্চলে অনেক পিছিয়ে পড়বে। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই কেবল বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পরিবর্তনের মত প্রকাশ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভোটারদের সম্মানের জন্য বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালে জোর প্রভাব খাটাতে পারে। গণতন্ত্রের পথ থেকে বাংলাদেশ যাতে বিচ্যুত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের কথায় এবং কাজে জোর দিতে হবে। খালেদা তার নিবন্ধে বলেন, পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোর উচিত যারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করে তাদের উপর ভ্রমণসহ নানা বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। প্রকাশ্যভাবে তাদের এটা বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের দেশের সকল নাগরিক তা শুনতে ও দেখতে পারে। এ ধরনের ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
নিবন্ধে, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সরকারের দুর্ব্যবহার, গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটকসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়।
