সংসদে যোগদানের সুযোগ না দেয়ায় সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী প্রত্যাহার

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
সংসদ অধিবেশনে যোগদানের সুযোগ না দেয়ায় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় তার আইনজীবীদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। শুনানিতে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সংসদে যোগদানের অধিকার আমার রয়েছে। কিন্তু অধিকার ক্ষুণ্ন করায় ঐ আইন লংঘন করে বিচার কার্যক্রমে আমি অংশ নিতে পারি না। তবে আমার যদি ফাঁসি না হয়, সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার সাতদিন পর আমি আবার আইনজীবী নিয়োগ দেব। এদিকে, শুনানি মুলতবি করারও আবেদন জানান সালাহউদ্দিন কাদের। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদনগুলো নাকচ করে মামলা পরিচালনায় সরকারি আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল ক্যামেরা ট্রায়ালে সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আসামিপক্ষে আইনজীবী শুনানিতে বিরত থাকায় মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে দুপুর পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে তার আইনজীবী ফখরুল ইসলাম ও আহসানুল হক শুনানিতে অংশ নেন। ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রাধিকার বিষয়ক আইন ১৯৬৫ এর ৭ ধারা অনুসারে সংসদ অধিবেশনের সাত দিন পূর্ব থেকে সাত দিন পর পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা আদালতে উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন। এ আইনের আওতায় ১৯৯৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। গত বছরের ২৭ মে সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্যকে গাড়ি ভাংচুরের মামলায় জামিন দিয়েছিলো হাইকোর্ট। কিন্তু সালাহউদ্দিন কাদেরের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়েছে। পরে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে করা আবেদনও খারিজ করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন কাদের আবারো আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন কাদের নিজের অধিকার সংরক্ষণের জন্য আইনজীবীদের নিয়োগ বাতিল করেছেন। কাজেই এ মামলার কার্যক্রমে আমরা অংশ নিতে পারছি না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম বলেন, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের প্রাধিকার বিষয়ক আইন ১৯৬৫-এর অস্তিত্ব নেই। এ আইনটি দিয়ে ট্রাইব্যুনালকে ভুল বোঝানোর জন্য করা আবেদনটি না মঞ্জুর হয়েছে। তার পক্ষে কাল একজন স্টেট ডিফেন্স মামলা পরিচালনা করবে।